ইরানের টানা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রমাণ করেছে যে, সামরিক কমান্ডারদের হত্যার পরও দেশটি দ্রুত সংগঠিত হওয়ার সক্ষমতা রাখে। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্রাফট’-এর সহসভাপতি ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ত্রিতা পারসি সিএনএন’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেছেন।
পারসি বলেন, ইসরাইল ধারণা করেছিল যে তারা ইরানের সামরিক নেতৃত্ব ও কমান্ড-কন্ট্রোল কাঠামো ধ্বংস করেছে। কিন্তু বাস্তবে ইরান দ্রুত সেই কাঠামো পুনর্গঠন করেছে। তিনি আরও জানান, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একাধিক স্তর ভেদ করে আঘাত হানছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
ইসরাইলের ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ অভিযানে ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ডস বাহিনীর শীর্ষ নেতা হোসেইন সালামি, বিমানবাহিনী প্রধান আমির আলি হাজিজাদেহ এবং সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলি শামখানিসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের হত্যার মাধ্যমে ইসরাইল ভেবেছিল তেহরানের প্রতিরোধ ক্ষমতা ভেঙে দিয়েছে। কিন্তু ইরানের দ্রুত পাল্টা হামলা ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৩’ এ ধারণা ভুল প্রমাণ করেছে।
সোমবার ভোররাতে ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তেল আবিব ও হাইফার মতো ইসরাইলের শহরগুলোতে আবাসিক ভবনে আঘাত, বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত ও আহতের সংখ্যা বাড়ছে। তেহরানেও ইসরাইলের টানা বিমান হামলার কারণে আতঙ্ক ছড়িয়েছে, বহু মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে রাজধানী ছেড়ে পালাচ্ছে।
ইরানের পাল্টা হামলায় শতাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে, যার মধ্যে অনেকগুলো ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত এখন আর সীমিত নয়; এটি একটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের রূপ নিচ্ছে, যার প্রভাব মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে বৈশ্বিক রাজনীতিতে পড়বে। ত্রিতা পারসি সতর্ক করে বলেন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমাগত উসকানি এই সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে তুলছে, যা একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনি ইসরাইলের হামলার জন্য “কঠিন শাস্তি” দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই অভিযানকে “ইতিহাসের অন্যতম সফল সামরিক অভিযান” হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, এটি ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি দূর করার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র এই হামলা থেকে নিজেদের দূরে রেখেছে বলে জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে শান্তি চুক্তির আহ্বান জানালেও সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের ওপর হামলা করে, তবে “অভূতপূর্ব শক্তি” দিয়ে জবাব দেওয়া হবে।










































































































































































































































































































































































































































































































































