চীন সফর যাচ্ছেন মোদি-newsedge4

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্কের কঠোর অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কে নতুন জটিলতা দেখা দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পাঁচ বছর পর প্রথমবারের মতো চীনে সফরে যাচ্ছেন। তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আয়োজিত সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনে অংশ নেবেন। এই সফরকে ভারত-চীন সম্পর্কে নতুন মোড় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

গত সোমবার (২৫ আগস্ট) থেকে ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে, যা ভারতের রাশিয়া থেকে তেল আমদানির প্রতিক্রিয়া হিসেবে আরোপ করা হয়েছে। এই শুল্ক ভারতের টেক্সটাইল, গহনা, চামড়াজাত পণ্য ও রাসায়নিক শিল্পের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অর্থনৈতিক চাপ ভারতকে বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান থেকে পিছিয়ে দিতে পারে, বিশেষ করে ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর তুলনায়।

আরও পড়ুন: তিন মাস পর ভারত-পাকিস্তানের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ

২০২০ সালে হিমালয়ের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত-চীন সীমান্ত সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছিল। তবে, ট্রাম্পের শুল্ক নীতির পরিপ্রেক্ষিতে মোদি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে এসসিও সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন। এই সম্মেলনকে বেইজিং ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এসসিও সম্মেলন হিসেবে ঘোষণা করেছে। রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর নেতারাও এই সম্মেলনে অংশ নেবেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এখন ভারত ও চীনের জন্য প্রধান অগ্রাধিকার। দীর্ঘদিনের ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা সত্ত্বেও, ট্রাম্পের শুল্ক নীতি ভারতকে ব্রিকস জোটের সদস্যদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়তে উৎসাহিত করছে। এই সম্মেলন ভারত-চীন সম্পর্কে উষ্ণতা ফিরিয়ে আনার একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব
মার্কিন শুল্ক নীতি ভারতকে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে প্ররোচিত করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলকে প্রভাবিত করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ভারতকে চীনের বিরুদ্ধে একটি পাল্টা শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিল। তবে, মোদির এই সফর এবং এসসিও সম্মেলনে ভারতের সক্রিয় অংশগ্রহণ এই প্রচেষ্টাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।

ভারতীয় কর্মকর্তারা ট্রাম্পের শুল্ককে ‘অন্যায্য ও অযৌক্তিক’ বলে সমালোচনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি জানিয়েছেন, ভারত তার কৃষক ও ক্ষুদ্র শিল্পের স্বার্থে আপস করবে না। এদিকে, ভারত ইউরোপ, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।

ট্রাম্পের শুল্ক নীতির ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কে উত্তেজনা বাড়লেও, এটি ভারত ও চীনের মধ্যে নতুন সহযোগিতার পথ খুলে দিয়েছে। এসসিও সম্মেলনে মোদি ও শি জিনপিংয়ের বৈঠক এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *