ইরান হরমুজ প্রণালিতে নিজের আরোপিত বিধিনিষেধের মধ্যেও চার দেশের জাহাজকে অবাধ চলাচলের সুযোগ দিয়েছে। ভারত, চীন, কাতার ও ইরাকের জাহাজগুলো কোনো বাধা ছাড়াই এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথে চলাচল করতে পারবে বলে জানিয়েছেন দেশটির এক জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা।
মঙ্গলবার ইরানিয়ান স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া বক্তব্যে পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির উপপ্রধান আমির হায়াত মোঘাদ্দাম বলেন, এই চার দেশের জাহাজ অবাধে চলাচল করছে এবং মার্কিন বাহিনীও সেগুলো আটকাচ্ছে না। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ভারত থেকে ওষুধ পাওয়া যাবে, চীন থেকে রাজনৈতিক সমর্থন মিলবে। কাতার আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়ে এসেছে, তাই তাদের কূটনৈতিক সমর্থনও গুরুত্বপূর্ণ।
মোঘাদ্দামের ভাষ্যমতে, ভারত ও চীনের জাহাজ থেকে ট্রানজিট ফি আদায় করা হবে। কাতারের জাহাজকে বিনা মাশুলে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ইরাকি জাহাজের ক্ষেত্রে মাশুল নেওয়া হবে কিনা সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করেননি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ছাড়ের পেছনে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত হিসাব রয়েছে। লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রুজবেহ পারসি বলেন, নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকা ইরানের জন্য পণ্য বিনিময় ও পারস্পরিক সুবিধা আদায় নতুন নয়। তবে এবার অবরোধের ফাঁক তৈরি করে প্রয়োজনীয় পণ্য আনা-নেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাদের হাশেমির মতে, ইরান সম্ভবত ট্রানজিট ফি বা পণ্যমূল্যের একটি অংশ আদায় করছে। অস্ট্রিয়ার সাবেক প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে উলফগ্যাং পুস্তাই একে কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, সফল হলে চীন থেকে বড় রাজস্ব আয় হতে পারে। কারণ চীন ইরানের অপরিশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা।
কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবরে হরমুজ দিয়ে প্রতিদিন ১ কোটি ২৩ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪২ শতাংশ চীনে এবং ১৩ শতাংশ ভারতে গেছে। কাতারের এলএনজি পরিবহনও অক্টোবরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হয়েছে।
আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের চতুর্থ দিনের মতো নিম্নমুখী
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের উপকূল ও বন্দর থেকে আসা-যাওয়া করা জাহাজের ওপর অবরোধ বহাল থাকবে। তবে ইরানের বন্দরে না গেলে সেগুলো অবরোধের আওতায় পড়বে না। মানবিক সহায়তাসামগ্রী পরিদর্শনের পর অনুমতি দেওয়া হতে পারে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, এই ব্যবস্থা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে এবং মার্কিন অবরোধ কতটা প্রভাবিত করবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে চার দেশই জ্বালানি আমদানি-রপ্তানিতে হরমুজের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই ছাড় তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে।























































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































