হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমা সংশোধনে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত-newsedge24

ঢাকার পাশাপাশি প্রতিটি বিভাগীয় শহরে হাইকোর্টের এক বা একাধিক স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপন এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমার বিধান সংশোধনে সকল রাজনৈতিক দল ঐকমত্যে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কমিশনের দ্বিতীয় ধাপের নবম দিনের আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

আলী রীয়াজ জানান, সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে রাষ্ট্রপতির ক্ষমার ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে সব দল একমত হয়েছে। নতুন বিধানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মতামতের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি ক্ষমা প্রদান করতে পারবেন। তিনি বলেন, “গত ১৬ বছর ধরে রাষ্ট্রপতির ক্ষমার বিষয়টি ব্যাপকভাবে অপব্যবহার হয়েছে। এই সংশোধনের মাধ্যমে রাজনৈতিক অপব্যবহার বন্ধ হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।”

বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধানের ১০০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে ঢাকার বাইরে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে প্রধান বিচারপতির পরামর্শে হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপনের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। এর ফলে বিচার প্রক্রিয়া আরও সহজলভ্য ও দ্রুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আলী রীয়াজ আরও জানান, জরুরি অবস্থার বিষয়ে আলোচনা জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিলের (এনসিসি) সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। এনসিসি এখন আলোচনার বাইরে থাকায় এই বিষয়টি নতুন করে রাজনৈতিক দলগুলোর সামনে তোলা হবে। তিনি বলেন, “আজকের আলোচনায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। আগামী সপ্তাহে আরও বিষয়ে অগ্রগতির আশা করছি।”

আরও পড়ুন: জুলাই সনদ তৈরির লক্ষ্যে ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় দফা আলোচনা

আজকের আলোচনায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, ইসলামী আন্দোলনসহ ৩০টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। আলোচনা সঞ্চালনা করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য সফররাজ হোসেন, বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, বদিউল আলম মজুমদার ও মো. আইয়ুব মিয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *