মাদুরোর শান্তির আহ্বান সত্ত্বেও ভেনিজুয়েলা উপকূলে মার্কিন হামলা-newsedge4

ভেনিজুয়েলা উপকূলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন এবং মাদক বহনকারী নৌকায় হামলার পরও প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো শান্তির পথ খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। গতকাল রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত একটি চিঠিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আলোচনার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন মাদুরো। চিঠিতে তিনি মাদক পাচারের অভিযোগকে “সবচেয়ে মিথ্যা খবর” বলে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, এটি “সশস্ত্র সংঘাতের উত্থানের লক্ষ্যে প্রচারিত” এবং “মহাদেশের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর” হবে। সিএনএনসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, এই চিঠি ৬ সেপ্টেম্বর তারিখের, যা ২ সেপ্টেম্বরের প্রথম হামলার চার দিন পর লেখা।

৬ সেপ্টেম্বর প্রথম হামলায় ১১ জন নিহত হয়েছে, যা মাদুরো “সিভিলিয়ানদের উপর সামরিক হামলা” বলে অভিহিত করেছেন। এরপরও মার্কিন বাহিনী আরও দুটি নৌকায় হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে সর্বশেষটিতে ৩ জন নিহত হয়েছে। ট্রাম্প ১৫ সেপ্টেম্বর এই হামলা ঘোষণা করেন, কিন্তু স্থান উল্লেখ করেননি। ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রের মাদক প্রতিরোধ সংস্থা এবং মার্কিন দূতাবাস নিশ্চিত করেছে যে, হামলাটি ক্যারিবীয় অঞ্চলে ঘটেছে এবং নৌকাগুলোতে মাদক বহন করা হচ্ছিল। মাদুরোর প্রথম শান্তির আবেদন সত্ত্বেও এই হামলাগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের “ড্রাগ ওয়ার”-এর অংশ, যাতে ভেনিজুয়েলাকে মাদক চক্রের কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে মাদুরোর পুনর্নির্বাচনকে বিরোধী দল এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বেশিরভাগ দেশ জালিয়াতি বলে অভিহিত করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন মাদুরোকে ট্রেন ডি আরাগুয়া কার্টেলের নেতা বলে অভিযুক্ত করে ৫০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে। মাদুরো এই অভিযোগ “মিথ্যা” বলে খারিজ করেছেন এবং চিঠিতে ট্রাম্পকে “আলোচনা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে শান্তি বজায় রাখতে” আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ট্রাম্পের স্পেশাল এনভয় রিচার্ড গ্রেনেলের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার প্রস্তাব দিয়েছেন এবং মাদক উৎপাদনের “নির্ভরযোগ্য তথ্য” পাঠানোর কথা বলেছেন।

আরও পড়ুন: ইউরোপীয় বিমানবন্দরে সাইবার হামলা: বহু ফ্লাইট বাতিল

লাতিন আমেরিকায় মার্কিন সামরিক মোতায়েনের ব্যাপক নিন্দা হয়েছে। ভেনিজুয়েলার দক্ষিণ ক্যারিবীয়ান উপকূলে ৮টি যুদ্ধজাহাজ, একটি পারমাণবিক সাবমেরিন এবং পোয়ের্তো রিকোতে ১০টি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। মাদুরো এগুলোকে “রেজিম চেঞ্জ”-এর প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন এবং লক্ষ লক্ষ মিলিশিয়ান মোতায়েন করেছেন। আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদক পাচার মার্কিন আইনে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য নয়, তাই এই হামলাগুলো আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কা তৈরি করেছে। ডেমোক্র্যাট সেনেটর অ্যাডাম শিফ কংগ্রেসের যুদ্ধ ঘোষণার অধিকার পুনরুদ্ধারের প্রস্তাব করেছেন। ট্রাম্প চিঠির বিষয়ে মন্তব্য করেননি, কিন্তু “ভেনিজুয়েলার সঙ্গে কী হবে দেখা যাবে” বলেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *