বাংলাদেশের আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) একটি পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন পাঠিয়েছে, যাতে প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই মিশনটি ২০০৮ সালের পর প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করবে, যা বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক লাতভিয়ার ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ইভার্স ইজাবসের নেতৃত্বে এটি শুরু হয়েছে, যা গত ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে কার্যক্রম শুরু করে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের আগে ধাপে ধাপে পর্যবেক্ষকদের মোতায়েন করা হচ্ছে।

আজ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) প্রথম ধাপে ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক (এলটিও) দেশের সব ৬৪টি জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে। এই পর্যবেক্ষকরা নির্বাচনী প্রচারণা, ভোটার তালিকা যাচাই, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং সামগ্রিক নির্বাচনী পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করবেন। সময়ের সঙ্গে এ সংখ্যা আরও বাড়বে, এবং ভোটের ঠিক আগে ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক (এসটিও) যুক্ত হবেন।

এ ছাড়া, ঢাকায় অবস্থিত ১১ জন বিশ্লেষক নিয়ে একটি কোর টিম কাজ করছে, যারা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সামগ্রিক ছবি বিশ্লেষণ করবে। ইইউর ২৭টি সদস্য দেশের পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের পর্যবেক্ষকরা এতে অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া, ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কূটনৈতিক মিশনের সদস্যরাও এতে যুক্ত হবেন।

রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মিশনের উপ-প্রধান পর্যবেক্ষক ইন্তা লাসে বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে কোনো বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি প্রত্যাশিত নয়. তিনি জানান, “আমরা প্রত্যাশা করি না যে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আমাদের সিকিউরিটি অ্যালার্ট জারি করতে হবে। আমাদের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে, এবং এখনই অতি সতর্কতার প্রয়োজন দেখছি না।” তিনি আরও যোগ করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সামগ্রিক ছবি দেখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যাতে সমস্ত দিকগুলো সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *