সাবেক সমন্বয়ক রিয়াদ-newsedge24

রাজধানীর গুলশানে সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বাসায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আব্দুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান (রিয়াদ) ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। ২৬ জুলাই ২০২৫ সন্ধ্যায় গুলশানের ৮৩ নম্বর রোডে অবস্থিত ওই বাসায় চাঁদা নিতে গিয়ে পাঁচজন হাতেনাতে ধরা পড়েন। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে রিয়াদের বাসা থেকে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার চেক উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কলাবাগান থানায় আলাদা একটি মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

১৭ জুলাই ২০২৫ সকালে আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদ এবং কাজী গৌরব ওরফে অপু শাম্মী আহমেদের গুলশানের বাসায় যান। তারা নিজেদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হিসেবে পরিচয় দিয়ে ৫০ লাখ টাকা এবং স্বর্ণালঙ্কার দাবি করেন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তারা শাম্মী আহমেদের স্বামী সিদ্দিক আবু জাফরকে আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ আখ্যায়িত করে গ্রেফতারের হুমকি দেন। ভয়ে সিদ্দিক আবু জাফর নিজের কাছে থাকা ৫ লাখ টাকা এবং তার ভাইয়ের কাছ থেকে আরও ৫ লাখ টাকা সংগ্রহ করে মোট ১০ লাখ টাকা তাদের দেন।

১৯ জুলাই রাতে রিয়াদ এবং অপু পুনরায় বাসায় এসে বাকি ৪০ লাখ টাকার জন্য হুমকি দেন এবং ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা মারেন। বিষয়টি গুলশান থানা পুলিশকে জানালে তারা চলে যান। ২৬ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টায় রিয়াদের নেতৃত্বে অভিযুক্তরা আবার বাসায় এসে বাকি টাকা দাবি করেন। বাসার দারোয়ানের মাধ্যমে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে গুলশান থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে রিয়াদসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে। এ সময় কাজী গৌরব ওরফে অপু পালিয়ে যান।

২৭ জুলাই ২০২৫ গুলশান থানায় শাম্মী আহমেদের স্বামী সিদ্দিক আবু জাফর বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার পুলিশ পরিদর্শক মোখলেছুর রহমান ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে ঢাকার মহানগর হাকিম আদালত চারজনের (রিয়াদ, ইব্রাহীম, সাকাদাউন ও সাদমান) সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আমিনুল ইসলামের বয়স ১৬ বছরের কম হওয়ায় তাকে টঙ্গীর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের তদন্ত ও চেক উদ্ধার

৩০ জুলাই ২০২৫ সকালে ডিএমপির সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে রিয়াদের বাসা থেকে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার চেক উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে কলাবাগান থানায় একটি পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতরা গত ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে গুলশান, বারিধারাসহ অভিজাত এলাকায় সমন্বয়ক পরিচয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে টার্গেট করে চাঁদাবাজি করে আসছিল।

আরও পড়ুন: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাসহ চারজনকে ৭ দিনের রিমান্ডে

চাঁদাবাজির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইব্রাহীম হোসেন মুন্না, সাকাদাউন সিয়াম এবং সাদমান সাদাবকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে। একইভাবে, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ রিয়াদ এবং আরেক নেতা জানে আলম অপুকে বহিষ্কার করে। ২৭ জুলাই সংগঠনটির সাবেক সমন্বয়ক রিফাত রশিদ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, কেন্দ্রীয় কমিটি ব্যতীত সারা দেশের সকল কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এখন রাজনৈতিক দলের শেল্টারে অনেকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।” তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানার ব্যবহার করে অপকর্মকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *