সুপ্রিম কোর্ট-লাল চাঁদ-newsedge4

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে জানিয়েছে, ষোড়শ সংশোধনীর মূল উদ্দেশ্য ছিল বিচারপতিদের স্বাধীনতাকে সংকটে ফেলা। এই রায়ের মাধ্যমে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে পুনরায় ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা অক্ষমতা বা আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণ করতে পারে।

বৃহস্পতিবার বাসসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চূড়ান্ত রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ষোড়শ সংশোধনীর উদ্দেশ্য ছিল কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের পক্ষ থেকে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল থেকে কেড়ে নিয়ে সংসদের হাতে তুলে দেওয়া। এর ফলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়েছিল।’

২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করে। ৫০ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়, যাতে বলা হয়, ‘পর্যবেক্ষণসহ মামলাটি নিষ্পত্তি করা হলো।’

বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী রায়ে মন্তব্য করেন, ‘যদি কোনো বিচারক তার বিচারিক দায়িত্ব পালনের সময় সরকারের অসন্তোষের মুখোমুখি হন, তাহলে সংসদের সদস্যদের একটি সিদ্ধান্তে তাকে অপসারণ করা সম্ভব হলে, তা কি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গ্রহণযোগ্য? আমার এবং সহকর্মীদের বিবেচনায় এর উত্তর স্পষ্টভাবে ‘না’।’

রায়ে আরও বলা হয়, বিচারপতিদের রাজনৈতিক বিতর্কে জড়ানো উচিত নয়, কারণ এতে বিচারকের মর্যাদা ও বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আদালত জোর দিয়ে বলেছে, বিচারকদের রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ থেকে বিরত থাকা উচিত।

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এই রায়কে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পথে একটি মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ‘এই রায়ের মাধ্যমে বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করার নতুন ভিত্তি পেয়েছে। এটি ইতিহাসে স্থান করে নেবে।’ তিনি জানান, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের ওপর ঐতিহাসিক দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, এবং তিনি আশা করেন তারা সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করবেন। রাষ্ট্রপক্ষের ৯৪টি রিভিউ কারণ পর্যালোচনার পর কোনো রিভিউয়ের প্রয়োজন পাওয়া যায়নি বলে আদালতকে জানানো হয়।

মামলায় রিটকারীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ, এবং শুনানিতে অংশ নেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। রাষ্ট্রের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

২০১৬ সালের ৫ মে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে। ২০১৭ সালের ৩ জুলাই আপিল বিভাগের সাত সদস্যের বেঞ্চ এই রায় বহাল রাখে। রাষ্ট্রপক্ষের রিভিউ আবেদনের নিষ্পত্তি হয় ২০২৪ সালের অক্টোবরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *