সোমবার (১০ নভেম্বর) জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকারী জেরেড কুশনার ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজা যুদ্ধবিরতি নিয়ে দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা শুরু করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র এই অস্থির যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী করতে তৎপরতা আরও বাড়াচ্ছে।
প্রথম ধাপের অগ্রগতি এবং দ্বিতীয় ধাপের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ইসরায়েলি সরকারের মুখপাত্র শোশ বেদরোসিয়ান সাংবাদিকদের জানান, দুই নেতা হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, গাজাকে সামরিকভাবে নিরস্ত্রীকরণ এবং নিশ্চিত করা যে হামাস ভবিষ্যতে গাজার কোনো ভূমিকায় থাকবে না, এসব সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।
বেদরোসিয়ান বলেন, ‘উভয়েই প্রথম ধাপ নিয়ে আলোচনা করেছেন, যা আমরা এখনও চালু রেখেছি। আমাদের বাকি বন্দীদের মুক্তি নিশ্চিত কীভাবে করা যায় তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি দ্বিতীয় ধাপের ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘দ্বিতীয় ধাপে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং এর বিস্তারিত বিষয়ে এখন যৌথভাবে আলোচনা করা হচ্ছে।’
এদিকে, নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘ইসরায়েল গাজার পাশাপাশি লেবাননের সঙ্গে থাকা যুদ্ধবিরতিকেও শক্ত হাতে কার্যকর করবে।’ গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রায় এক মাস ধরে কার্যকর রয়েছে। মূলত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হঠাৎ হামলার পর শুরু হয় যুদ্ধ। যা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় বিরতি এনেছে। প্রথম ধাপের এ যুদ্ধবিরতিতে কয়েকজন বন্দী ও আটকা পড়া ব্যক্তিদের বিনিময় করা হয়েছে। সাম্প্রতিককালে ইসরায়েল ১৫ জন ফিলিস্তিনিদের মৃতদেহ গাজায় ফেরত পাঠিয়েছে, যা যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের অংশ।
আরও পড়ুন: যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৯৭ নিহত
চলমান যুদ্ধবিরতি তৈরিতে সাহায্য করা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাই কুশনার এই প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তিনি ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ উপদেষ্টা ছিলেন এবং ২০ দফা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার প্রধান স্থপতি। তবে এই যুদ্ধবিরতি এখনও অস্থির, কারণ ইসরায়েল ও হামাস পরস্পরকে লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী কমপক্ষে ২৪২ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে।
দ্বিতীয় ধাপে হামাস যোদ্ধাদের নিরাপদ প্রস্থান এবং অস্ত্র সমর্পণের মতো জটিল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। জাতিসংঘের মানবিক প্রধান টম ফ্লেচার জানান, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর গাজায় ১০ লক্ষের বেশি ফিলিস্তিনি খাদ্য সাহায্য পেয়েছেন, কিন্তু আরও সাহায্যের জন্য প্রবেশদ্বার বাড়ানো দরকার। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আলোচনা যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী করতে কী সাফল্যী পায় তা নির্ভর করবে।
































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































