পবিত্র ঈদুল আজহার কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণে এবার নজিরবিহীন প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। সরকারের বেঁধে দেওয়া নির্ধারিত ১২ ঘণ্টার সময়সীমা পার হওয়ার আগেই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার সব বর্জ্য সম্পূর্ণ পরিষ্কার করা হবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান।
এদিকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, দ্রুততম সময়ে বর্জ্য অপসারণ ও নগরীকে দুর্গন্ধমুক্ত রাখতে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বিশেষ অনুশাসন বাস্তবায়নে দেশের সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা একযোগে কাজ করছে।
ঈদের দিন পশু জবাইয়ের পর পরই ঢাকার দুই সিটিসহ সারা দেশের সড়কগুলো যাতে দ্রুত স্বাভাবিক চেহারায় ফিরে আসে, সে জন্য এবার যুদ্ধকালীন তৎপরতা নেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার বিভাগের এক সমন্বয় সভা শেষে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তারা এই চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্যমাত্রার কথা গণমাধ্যমকে জানান।
ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, “আমরা মাঠ পর্যায়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মী, গাড়ি চালক এবং সুপারভাইজারদের ছুটি বাতিল করে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব বন্টন করেছি। আধুনিক বর্জ্যবাহী যান, পানির গাড়ি এবং পর্যাপ্ত ব্লিচিং পাউডার ও স্যাভলন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য কেবল ১২ ঘণ্টার কোটা পূরণ করা নয়, বরং তারও বেশ কয়েক ঘণ্টা আগে উত্তর ঢাকাকে একদম ঝকঝকে করে তোলা।”
তিনি আরও জানান, এবার কন্ট্রোল রুম বা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রতিটি ওয়ার্ডের বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সরাসরি নজরদারি (মনিটরিং) করা হবে। যেখানেই বর্জ্যের স্তূপ দেখা যাবে, সেখানেই তাৎক্ষণিক অতিরিক্ত জনবল পাঠানো হবে।
বর্জ্য অপসারণের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ কেবল রাজধানীতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং এর পরিধি বিস্তৃত করা হয়েছে জেলা-উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের জানান, কোরবানি উত্তর ঢাকা ও দেশের অন্যান্য বড় শহরগুলোকে দ্রুততম সময়ে দুর্গন্ধমুক্ত করা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুনির্দিষ্ট অনুশাসন দিয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অত্যন্ত স্পষ্ট—পবিত্র এই উৎসবের আনন্দ যেন বর্জ্যের দুর্গন্ধ বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে মলিন না হয়। এই অনুশাসন অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নে দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশনের মেয়র, পৌরসভা চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের গাফিলতি বা ঢিলেমি দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।



































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































