ইউক্রেন, জার্মানি, পোল্যান্ড, ফ্রান্স, ব্রিটেনসহ বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ রাশিয়ার কাছে ৩০ দিনের নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল। এই প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, এবং ফ্রান্স ও জার্মানির মতো দেশগুলি রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার হুমকিও দিয়েছে। তবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই প্রস্তাবে সাড়া দেননি, যা রবিবার (১১ মে ২০২৫) রাতে ইউক্রেনে ১০০টিরও বেশি ড্রোন হামলার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, এই হামলা রাশিয়ার তরফে চালানো হয়েছে, যা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যানের ইঙ্গিত বহন করে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে উভয় দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা বিধ্বস্ত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, এবং অনেকে ঘরছাড়া। আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশ যুদ্ধ বন্ধে উদ্যোগ নিলেও স্থায়ী সমাধান এখনও অধরা। এর মধ্যে ইউক্রেন ও ইউরোপীয় দেশগুলির ৩০ দিনের নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব এসেছিল, যা ১২ মে থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে রাশিয়া এই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি।
রবিবার মস্কোর তরফে স্থায়ী সমাধানের জন্য ইউক্রেনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পুতিন জানান, আগামী ১৫ মে ইস্তানবুলে এই আলোচনা হতে পারে। তবে তিনি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেননি এবং ইউরোপীয় দেশগুলির নিষেধাজ্ঞার হুমকির নিন্দা করেছেন। পুতিন বলেন, “কিয়েভ যদি কোনও পূর্বশর্ত ছাড়া সরাসরি আলোচনা শুরু করতে চায়, তবে আমরা রাজি।” এই বক্তব্যে তিনি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব এড়িয়ে গেছেন এবং আলোচনার জন্য নিজের শর্ত আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই প্রস্তাবকে “ইতিবাচক” হিসেবে স্বাগত জানালেও সতর্কতার সঙ্গে বলেছেন, “রাশিয়ার অতীত আচরণ থেকে জানা যায়, তারা যুদ্ধবিরতি মানে না।” তিনি পুতিনের এই প্রস্তাবকে “ম্যানিপুলেশন” হিসেবে আখ্যায়িত করে ৩০ দিনের নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির ওপর জোর দিয়েছেন।
ইউক্রেন ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা এই প্রস্তাবের মাধ্যমে পুতিনের প্রকৃত উদ্দেশ্য পরীক্ষা করতে চেয়েছিল। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, “যুদ্ধবিরতি ছাড়া কোনও আলোচনা অর্থহীন। রাশিয়া যদি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে, তবে তাদের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্য স্পষ্ট হবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, পুতিনের আলোচনার প্রস্তাব যুদ্ধবিরতির দাবি থেকে মনোযোগ সরানোর কৌশল হতে পারে। রাশিয়া সম্প্রতি কুর্স্ক অঞ্চলে সামরিক সাফল্য পেয়েছে, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। পুতিনের শর্তসাপেক্ষে আলোচনার প্রস্তাব এবং যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান ইঙ্গিত দেয় যে, তিনি সামরিক চাপ বজায় রেখে আলোচনায় উপরের হাত রাখতে চান।
ইউক্রেনের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার পাল্টা আক্রমণও যুদ্ধের তীব্রতা বাড়িয়েছে। জেলেনস্কি বলেছেন, “আমরা শান্তি চাই, কিন্তু রাশিয়ার আক্রমণ বন্ধ না হলে তা সম্ভব নয়।” তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে রাশিয়ার ওপর আরও চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে, ইস্তানবুলে প্রস্তাবিত আলোচনা কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। রাশিয়ার অতীতের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ইতিহাস এবং পুতিনের শর্ত আরোপের প্রবণতা শান্তি প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে। ইউরোপীয় নেতারা এখন ট্রাম্পের নেতৃত্বে আমেরিকার ভূমিকা এবং রাশিয়ার ওপর সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছেন।
































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































