'দীর্ঘদিন পর ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে এই ঈদ অত্যন্ত আনন্দের'

জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দীর্ঘদিন পর ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে এই ঈদ অত্যন্ত আনন্দের। এই উদযাপনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময় হয়েছে। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে এই ঈদকে বিষাদময় বলেও অভিহিত করেন মির্জা ফখরুল।

শনিবার (২১ মার্চ) সকালে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মন্ত্রীসভার সদস্যসহ হাজারো মুসল্লি। নামাজ শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশে যে দমন-পীড়নের পরিবেশ ছিল, তা থেকে মুক্তি পেয়ে এবারের ঈদ অন্যরকম আনন্দ বয়ে এনেছে। ফ্যাসিবাদের অবসানের পর প্রথম ঈদ হিসেবে এটি জাতির জন্য নতুন আশার প্রতীক।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের যাত্রা শুরু হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে দেশকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। এই ঈদ যেন সকলের জন্য শান্তি, সমৃদ্ধি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা বয়ে আনে—এমন প্রার্থনাও করেন তিনি।

তবে আনন্দের মাঝেও একটি বিষাদের ছায়া রয়েছে বলে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবারের ঈদে পরিবারের সঙ্গে থাকতে পারেননি। তার অনুপস্থিতি পুরো উদযাপনকে বিষাদময় করে তুলেছে। দলের নেতাকর্মীরা তার সুস্থতা ও দ্রুত মুক্তির জন্য প্রার্থনা করছেন। এই বিষয়টি বিএনপির অনেক নেতার কণ্ঠে উঠে এসেছে।

এবারের ঈদুল ফিতর বাংলাদেশে ২১ মার্চ পালিত হয়েছে। শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় রমজান ৩০ দিন পূর্ণ হয়েছে। জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত ছাড়াও সারাদেশে লাখো মুসল্লি নামাজ আদায় করেছেন। রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে এবারের ঈদে ফ্যাসিবাদের অবসানের পর নতুন যুগের সূচনার কথা বারবার উঠে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *