রবিবার ভোর ৫:২০ নাগাদ উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপ্রয়াগ জেলার গৌরীকুণ্ড এলাকায় কেদারনাথ ধাম থেকে গুপ্তকাশীগামী একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে সাতজন নিহত হয়েছেন। আরিয়ান অ্যাভিয়েশনের এই হেলিকপ্টারে পাইলটসহ ছয়জন তীর্থযাত্রী ছিলেন, যাদের মধ্যে একজন ২৩ মাসের শিশু। নিহতরা উত্তরাখণ্ড, উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, এবং গুজরাটের বাসিন্দা। এই ঘটনা ২ মে ২০২৫ থেকে কেদারনাথ মন্দিরের দরজা খোলার পর গত ছয় সপ্তাহে পঞ্চম হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা।
হেলিকপ্টারটি কেদারনাথ থেকে গুপ্তকাশীর ১০ মিনিটের যাত্রাপথে গৌরীকুণ্ড ও সোনপ্রয়াগের মধ্যবর্তী গৌরী মাই খর্কের ঘন জঙ্গলে বিধ্বস্ত হয়। উত্তরাখণ্ড সিভিল এভিয়েশন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (ইউসিএডিএ) জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রধান কারণ ছিল প্রতিকূল আবহাওয়া এবং দুর্বল দৃশ্যমানতা। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, যান্ত্রিক ত্রুটিও এতে ভূমিকা রাখতে পারে। হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়ে আগুন ধরে যায়, ফলে সব আরোহী “চার্ড টু ডেথ” হন।
নিহতদের মধ্যে মহারাষ্ট্রের যবতমালের জয়সওয়াল পরিবারের তিন সদস্য—রাজকুমার জয়সওয়াল, শ্রদ্ধা জয়সওয়াল, এবং তাদের ২৩ মাসের কন্যা কাশী রাজকুমার জয়সওয়াল—অন্তর্ভুক্ত। অন্যরা উত্তরাখণ্ড, উত্তর প্রদেশ, এবং গুজরাটের। একজন যাত্রী ছিলেন বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটির (বিকেটিসি) কর্মী।
স্থানীয়রা গবাদি পশুর খাদ্য সংগ্রহের সময় বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটি দেখতে পেয়ে কর্তৃপক্ষকে খবর দেন। জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনী (এনডিআরএফ) এবং রাজ্য দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনী (এসডিআরএফ) সকাল ৭টা নাগাদ গৌরীকুণ্ডে পৌঁছে এবং ৮:৫৫ নাগাদ উদ্ধার কাজ শুরু করে। দুর্গম জঙ্গল ও পাহাড়ি এলাকার কারণে উদ্ধার কাজ চ্যালেঞ্জিং। গড়ওয়াল কমিশনার বিনয় শঙ্কর পাণ্ডে জানিয়েছেন, “স্থানীয়দের তথ্যানুসারে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই।”
উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, “রুদ্রপ্রয়াগ জেলায় হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার অত্যন্ত দুঃখজনক খবর পাওয়া গেছে। এসডিআরএফ, স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য উদ্ধার দল ত্রাণ ও উদ্ধার কাজে নিয়োজিত। আমি বাবা কেদারের কাছে সকল যাত্রীর নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনা করছি।” তিনি হেলিকপ্টার পরিচালনার জন্য কঠোর স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে যান্ত্রিক পরীক্ষা এবং আবহাওয়ার তথ্য বাধ্যতামূলক করা হয়। তিনি প্রধান সচিবকে একটি কারিগরি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।
কেদারনাথের দুর্গম পথ এড়াতে তীর্থযাত্রীদের মধ্যে হেলিকপ্টার ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে, কিন্তু ঘন ঘন দুর্ঘটনা নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলেছে। ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (ডিজিসিএ) উত্তরাখণ্ডে হেলিকপ্টার পরিচালনার পর্যালোচনা শুরু করেছে। আরিয়ান অ্যাভিয়েশনের পূর্ববর্তী লঙ্ঘনের রেকর্ড, যেমন ২০২২ সালে জরিমানা এবং ২০১৯ সালে দুর্ঘটনা, তাদের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার মান নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































