শাহরিয়ার আলম সাম্য-newsedge24

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার প্রতিবাদে শুক্রবার (১৬ মে) দুপুরে শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা হত্যাকারীদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দিয়েছেন। দাবি পূরণ না হলে শাহবাগ থানা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

শাহরিয়ার আলম সাম্য ঢাবির শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী এবং স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক ছিলেন। গত মঙ্গলবার (১৩ মে) রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কালীমন্দির গেটের সামনে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন তিনি। পুলিশ জানায়, সাম্য মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় অন্য একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তার ডান উরুতে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে—তামিম হাওলাদার (৩০), সম্রাট মল্লিক (২৮) এবং পলাশ সরদার (৩০)। আদালত তাদের কারাগারে পাঠিয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত তামিম হাওলাদারের বাড়ির দুটি ঘর স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে।

হত্যার প্রতিবাদে গত তিন দিন ধরে ছাত্রদল ও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও মানববন্ধন পালন করছে। বুধবার (১৪ মে) রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রদল। তারা উপাচার্য ও প্রক্টরের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে, অভিযোগ করে বলেছে যে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের টার্গেট করে হত্যা করা হচ্ছে। ঝালকাঠি, জামালপুরসহ বিভিন্ন স্থানে ছাত্রদল বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বৃহস্পতিবার (১৫ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে উত্তরবঙ্গ ছাত্র ফোরামের মানববন্ধনে এই হত্যাকে ‘রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “সাম্য জাতীয় সংগীত ও স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলেছিলেন। শাহবাগে জাতীয় সংগীত বন্ধের আন্দোলনের বিরুদ্ধে তিনি পোস্ট করেছিলেন। এটাই কি হত্যার কারণ? এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে।” তিনি পুলিশকে গ্রেপ্তারকৃত ‘ভবঘুরেদের’ পরিবর্তে ঘটনার পেছনের মূল কারণ খুঁজে বের করার আহ্বান জানান।

রিজভী আরও বলেন, “৫ আগস্টের পর ক্যাম্পাসে শান্তি প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু উপাচার্যের পক্ষপাতমূলক মনোভাবের কারণে ক্যাম্পাসে অরাজকতা চলছে। জানুয়ারিতে তফাজ্জল নামে এক শিক্ষার্থী হত্যার পর এখন সাম্যের হত্যা। বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তির পরিবেশ থাকা উচিত, রক্তপাত নয়।” তিনি উপাচার্যের কাছে শিক্ষার্থীদের প্রতি নিরপেক্ষ আচরণ এবং দায়িত্বশীল পদক্ষেপের দাবি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *