khamenei funeral trump-01051-NewsEdge24

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির জানাজা চলাকালে উপস্থিত জনতার কান্নায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি ভেবেছিলেন ইরানের মানুষ খামেনিকে ঘৃণা করত। এরপর ব্যঙ্গ করে তিনি বলেন, “হয়তো এগুলো নকল কান্না।”

এদিকে ওই সাক্ষাৎকারে দেশটির নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে নতুন করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, চাইলে এক গুলিতেই ইরানের বাকি শীর্ষ নেতৃত্বকে হত্যা করা সম্ভব, তবে আলোচনার সুযোগ নষ্ট হবে বলেই তা করা হচ্ছে না।

ট্রাম্প বলেন, “ওরা সবাই এক জায়গায় রয়েছে। একটি গুলিতেই আমরা সবাইকে শেষ করে দিতে পারি। কিন্তু আমরা তা করছি না, কারণ তাহলে আলোচনার জন্য আর কাউকে পাওয়া যাবে না। তারা চুক্তি করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।”

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, খামেনির শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষ এক সপ্তাহের জন্য আলোচনা ও সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান কোনো পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা চালাবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

৩৬ বছর ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আলী খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর দিন নিহত হন। তার মৃত্যুর পর মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের সূচনা হয়।

ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী সাধারণত মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দাফন সম্পন্ন করার বিধান থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে খামেনির দাফন বিলম্বিত করা হয়।

আরও পড়ুন:  তেহরানে খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে লাখো মানুষের ঢল

ইরান গত ৪ জুলাই, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ২৫০তম বার্ষিকীর দিন থেকেই খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু করে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৭ জুলাই কোম শহরে ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। পরে বিভিন্ন ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৯ জুলাই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পবিত্র শহর মাশহাদে তার দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

খামেনির শেষ বিদায়ে অংশ নিতে ইতোমধ্যে লাখো মানুষ ইরানের বিভিন্ন শহরের রাস্তায় জড়ো হয়েছেন। আন্তর্জাতিকভাবেও এই জানাজা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

শনিবার বিদায় অনুষ্ঠানে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকে আবেগাপ্লুত হয়ে কাঁদতে দেখা যায়।

2 comments on “খামেনির জানাজায় জনতার কান্নায় ট্রাম্পের বিস্ময়”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *