ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ঘোষণা-বাংলাদেশের পণ্যে শুল্ক ২০-newsedge24

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে। এর আগে মার্কিন প্রশাসন ৩৫ শতাংশ শুল্কের প্রস্তাব দিলেও, আলোচনার পর শুল্কহার ১৫ শতাংশ কমিয়ে নতুন হার ঘোষণা করা হয়। শুক্রবার ওয়াশিংটন ডিসি থেকে পাঠানো এক সরকারি বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই শুল্কহার বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতকে শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ৭০টি দেশের আমদানিযোগ্য পণ্যে সর্বোচ্চ ৪১ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছেন। ১ আগস্টকে চূড়ান্ত সময়সীমা ধরে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। নতুন শুল্ক কাঠামো শুধু আমদানি শুল্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এর আওতায় অভ্যন্তরীণ নীতি সংস্কার, বাণিজ্য ভারসাম্য, এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।

আরও পড়ুন: ফিলিস্তিন ইস্যুতে কানাডার ওপর ট্রাম্পের অসন্তোষ

আলোচনায় অংশ নেওয়া দেশগুলোকে মার্কিন কৃষিপণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছে। যেসব দেশ অশুল্ক বাধা, বাণিজ্য ঘাটতি, ও নিরাপত্তা ইস্যু সমাধানে আগ্রহ দেখিয়েছে, তাদের ওপর তুলনামূলকভাবে কম শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ২০ শতাংশ শুল্ক সুবিধা পেয়েছে, যা শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার (১৯-২০%) শুল্কহারের সমতুল্য। ফলে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান অক্ষুণ্ন থাকবে। তবে, ভারত পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য চুক্তিতে ব্যর্থ হওয়ায় ২৫ শতাংশ শুল্কের মুখোমুখি।

বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান বলেন, “আমরা সতর্কতার সঙ্গে আলোচনা করেছি, যাতে জাতীয় স্বার্থ ও সক্ষমতার সঙ্গে প্রতিশ্রুতি সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। তৈরি পোশাক খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, এবং মার্কিন কৃষিপণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়ে খাদ্য নিরাপত্তা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “৩৫ শতাংশ শুল্ক এড়াতে পেরেছি, যা পোশাক খাত ও এর ওপর নির্ভরশীল লাখো মানুষের জন্য স্বস্তির। আমরা প্রতিযোগিতার অবস্থান ধরে রেখে বিশ্বের বৃহত্তম ভোক্তা বাজারে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছি।”

প্রসঙ্গত, গত ২ এপ্রিল ট্রাম্প বাণিজ্য ঘাটতির কারণে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যা ৯ এপ্রিল তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। এ সময় আলোচনার সুযোগ দেওয়া হয়, যার ফলে বর্তমান শুল্কহার নির্ধারিত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *