মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার মেঘনা নদীতে শুক্রবার (২২ আগস্ট ২০২৫) বিকেলে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও কলাম লেখক বিভুরঞ্জন সরকারের (৭১) মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর কলাগাছিয়া এলাকার চর বলাকিয়ায় মেঘনা নদীতে তার মরদেহ ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়।
ঘটনার বিবরণ
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট ২০২৫) সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীর বাসা থেকে দৈনিক আজকের পত্রিকার কার্যালয়ের উদ্দেশে বের হন বিভুরঞ্জন সরকার। তিনি ভুলে মোবাইল ফোন বাসায় রেখে যান এবং অফিসে পৌঁছাননি। পরিবারের সদস্যরা তার সন্ধান না পেয়ে রাতে রমনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
শুক্রবার বিকেলে মেঘনা নদীতে ভাসমান মরদেহ দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে নৌ-পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। মরদেহটি মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। নৌ-পুলিশের নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন জানান, মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি, তবে এটি কিছুটা বিকৃত হতে শুরু করেছে। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “বিভুরঞ্জন সরকারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেছেন। তিনি কীভাবে মেঘনা নদীতে গেলেন এবং তার মৃত্যুর কারণ কী, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
বিভুরঞ্জনের ছেলে ঋত সরকার জানান, “প্রতিদিনের মতো সকাল ১০টায় বাবাকে বাসা থেকে অফিসের উদ্দেশে বের হতে দেখেছি, কিন্তু তিনি বাসায় ফেরেননি বা অফিসেও যাননি।” তিনি রমনা থানায় জিডি করেছিলেন। বিভুরঞ্জনের ছোট ভাই চিররঞ্জন সরকার বলেন, “পুলিশের দেওয়া ছবি দেখে আমি নিশ্চিত যে এটি দাদার মরদেহ। আমরা মুন্সীগঞ্জে শনাক্তকরণ ও আনুষ্ঠানিকতার জন্য গিয়েছি।”
বিভুরঞ্জনের খোলা চিঠি
নিখোঁজ হওয়ার আগে বিভুরঞ্জন সরকার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরকে একটি খোলা চিঠি পাঠান, যা শুক্রবার প্রকাশিত হয়। চিঠির ফুটনোটে তিনি লিখেছিলেন, “জীবনের শেষ লেখা হিসেবে এটা ছাপতে পারেন।” এই চিঠির বিষয়বস্তু নিয়ে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।
বিভুরঞ্জন সরকারের কর্মজীবন
১৯৫৪ সালে জন্মগ্রহণকারী বিভুরঞ্জন সরকার ষাটের দশকে স্কুলছাত্র থাকাকালীন দৈনিক আজাদ-এর মফস্বল সংবাদদাতা হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করেন। দৈনিক মাতৃভূমি, সাপ্তাহিক চলতিপত্রের সম্পাদক এবং সাপ্তাহিক মৃদুভাষণের নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন। আশির দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় ‘তারিখ ইব্রাহিম’ ছদ্মনামে সাপ্তাহিক যায়যায় দিনে লেখা তার রাজনৈতিক নিবন্ধগুলো পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। মৃত্যুকালে তিনি দৈনিক আজকের পত্রিকার জ্যেষ্ঠ সহকারী সম্পাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
আরও পড়ুন: গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু: স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ
নৌ-পুলিশের ইনচার্জ সালেহ আহমেদ পাঠান জানান, মরদেহের সঙ্গে কোনো পরিচয়পত্র পাওয়া যায়নি, তবে রমনা থানায় জিডির ছবির সঙ্গে মিল পাওয়ায় মরদেহটি বিভুরঞ্জনের বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ এবং তিনি কীভাবে মেঘনা নদীতে পৌঁছালেন তা ন নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।






































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































