পাকিস্তান-সৌদি আরব পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর-newsedge24

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের রিয়াদ সফরে পাকিস্তান ও সৌদি আরব একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা অনুসারে, ‘যেকোনো এক দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন উভয় দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে বিবেচিত হবে।’ এই চুক্তি দুই দেশের আট দশকের ঐতিহ্যবাহী অংশীদারিত্বকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে।

সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে শেহবাজ শরীফ রিয়াদ সফর করেন। আল-ইয়ামামা প্রাসাদে দুই নেতার বৈঠকে তারা ঐতিহাসিক ও কৌশলগত সম্পর্ক, পারস্পরিক স্বার্থ এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই চুক্তি দুই দেশের ভ্রাতৃত্ব, ইসলামী সংহতি এবং যৌথ কৌশলগত স্বার্থের প্রতিফলন। এটি নিরাপত্তা জোরদার করা, আঞ্চলিক-বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং যৌথ প্রতিরোধশক্তি বাড়ানোর লক্ষ্যে করা হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরকালে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও উপস্থিত ছিলেন।

এই প্রতিরক্ষা চুক্তি এমন সময়ে হয়েছে যখন ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক পেহেলগামে হামলা এবং ভারতের অপারেশন সিঁদুর পাল্টা আঘাতের পর সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। সৌদি এক কর্মকর্তা বলেছেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার প্রতিক্রিয়া নয় বরং দীর্ঘদিনের সহযোগিতার আনুষ্ঠানিকীকরণ। তবে পাকিস্তানের নিউক্লিয়ার অস্ত্রের ছত্রছায়া সৌদির জন্য অন্তর্ভুক্ত কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কর্মকর্তা বলেন, এটি সকল সামরিক উপায় অন্তর্ভুক্ত করে একটি ব্যাপক প্রতিরক্ষা চুক্তি।

ভারত এই চুক্তির প্রতিক্রিয়ায় সতর্কতা জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির খবর জেনেছি। সরকার জানত যে, এটি দীর্ঘদিনের ব্যবস্থাকেই আনুষ্ঠানিক রূপ দেবে। আমরা জাতীয় নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক শান্তির ওপর এর প্রভাব খতিয়ে দেখব। ভারতের জাতীয় স্বার্থ ও সর্বাত্মক নিরাপত্তা সুরক্ষিত করাই সরকারের অঙ্গীকার।”

আরও পড়ুন: গাজায় ইসরায়েলি হামলাকে ‘গণহত্যা’ ঘোষণা জাতিসংঘের

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারত-সৌদি সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে ঘনিষ্ঠ হয়েছে। বর্তমানে সৌদি আরব ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। এপ্রিলে মোদির রিয়াদ সফরে সৌদি পেহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার কঠোর নিন্দা করে। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কোনো কারণেই সন্ত্রাসবাদকে ন্যায়তা দেওয়া যায় না; সব দেশকে সন্ত্রাসবাদ প্রত্যাখ্যান করতে, অবকাঠামো ভাঙতে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। মোদি এর আগে তিনবার সৌদি সফর করেছেন এবং ২০১৬ সালে তাকে সৌদির সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘কিং আবদুলআজিজ স্যাশ’ প্রদান করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *