শহিদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্তের আইনি দিক পর্যালোচনা করে আগামী রবিবার জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থায় আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে যমুনা এলাকায় বিক্ষোভকারীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বলপ্রয়োগের অভিযোগ অস্বীকার করে সরকার জানিয়েছে, কোনো গুলি ছোড়া হয়নি এবং আহতদের কারও শরীরে গুলির আঘাত নেই।
আজ শুক্রবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার উপপ্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদারের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শহিদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’র ব্যানারে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। যমুনা ও আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথমে কোনো বলপ্রয়োগ করেনি।
আজ শুক্রবার বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে এবং জলকামানের ওপর উঠে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করা হয়। সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এ সময় কোনো গুলি ছোড়া হয়নি। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশও নিশ্চিত করেছে যে আগ্নেয়াস্ত্রের কোনো ব্যবহার হয়নি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ মোট ২৩ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে তাদের কারও শরীরে গুলির আঘাত নেই।
সরকার পুনর্ব্যক্ত করেছে যে শহিদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে তারা বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনি দিক গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং রবিবার জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থায় চিঠি পাঠানো হবে। বিক্ষোভকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগকে সরকার ‘সঠিক নয়’ বলে উল্লেখ করেছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার সকলের প্রতি ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ এই নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি বাংলাদেশের দিকে নিবদ্ধ এবং বহু বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক ইতোমধ্যে দেশে উপস্থিত।
আরও পড়ুন: প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন দখলের চেষ্টা, জারি ১৪৪ ধারা
সরকার উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে। এই নির্বাচনকে সুষ্ঠু, সুন্দর, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার ওপর জোর দিয়ে বলা হয়েছে, এটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।




































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































