ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র-010192-NewsEdge24

চলতি বছরের শুরুতে ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৮১টি সামরিক বিমান ও ড্রোন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ক্ষতির আর্থিক মূল্য প্রায় ৩৩০ কোটি ডলার। মার্কিন কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের (সিআরএস) নতুন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে বলে ভারতীয় বার্তাসংস্থা এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানা যায়।

‘ইউএস এয়ারক্রাফট কমব্যাট ড্যামেজ ইন অপারেশন এপিক ফিউরি: কনসিডারেশনস ফর কংগ্রেস’ শিরোনামের প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষয়ক্ষতির বিরল সরকারি হিসাব তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেশটির সবচেয়ে আধুনিক যুদ্ধবিমানগুলোর কয়েকটিও রয়েছে। এর মধ্যে এফ-৩৫এ লাইটনিং-২, এফ-১৫ এবং এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের মূল্য ৩ কোটি ডলারের বেশি। ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের প্রতিটির আনুমানিক মূল্য ৩ থেকে ৫ কোটি ডলার। আর পঞ্চম প্রজন্মের এফ-৩৫এ লাইটনিং-২ যুদ্ধবিমানের প্রতিটির মূল্য ৯ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি।

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযানের সময় যুক্তরাষ্ট্র ১২টি এফ-১৫ই, একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং-২, দুটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২ এবং সাতটি কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান হারিয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এর মধ্যে ২ মার্চ কুয়েতের আকাশে নিজেদের বাহিনীর গুলিতে তিনটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। পরের মাসে ইরানের আকাশে আরেকটি এফ-১৫ ভূপাতিত হয়। এছাড়া ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় আরও অন্তত আটটি এফ-১৫ই সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র একটি ই-৩ সেন্ট্রি আকাশপথের সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, দুটি এমসি-১৩০জে কমান্ডো-২ বিশেষ অভিযানবিষয়ক বিমান, একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ জলি গ্রিন-২ উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার, একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন, তিনটি এমকিউ-১ এবং ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারিয়েছে।

বোয়িং-৭০৭ যাত্রীবাহী বিমানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমানটি পুরোনো হলেও মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটির মূল্য প্রায় ২৭ কোটি ডলার। মার্কিন বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে দেশটির বহরে এ ধরনের মাত্র ৩২টি বিমান সক্রিয় ছিল।

যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র আরও একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি আক্রমণকারী হেলিকপ্টার, চারটি এএইচ-৬ লিটল বার্ড হালকা আক্রমণকারী হেলিকপ্টার এবং একটি এমএইচ-৬০ সি হক সামুদ্রিক হেলিকপ্টার হারিয়েছে।

আরও পড়ুন: আল-আকসায় শত শত ইসরাইলি প্রবেশ ও নাচ-গান

তবে এই ক্ষয়ক্ষতির হিসাব চূড়ান্ত নয় বলে সতর্ক করেছে সিআরএস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু সামরিক তথ্য এখনো গোপন থাকায় এবং সামরিক অভিযান চলমান থাকায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে। পাশাপাশি কিছু ঘটনার জন্য দায়ী পক্ষ নির্ধারণ করাও কঠিন। ক্ষতিগ্রস্ত কিছু বিমান মেরামতের পর আবারও কাজে ফিরতে পারে।

এদিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত অস্ত্রের ব্যয়ও দ্রুত বেড়েছে। এক মাসের কিছু বেশি সময়ে এই ব্যয় ৬০০ কোটি ডলারেরও বেশি বেড়ে ২১৭০ কোটি ডলার থেকে ২৮১০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।

তবে কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের সর্বশেষ প্রতিবেদনে অস্ত্রের ব্যয় ২১৭০ কোটি ডলার উল্লেখ করা হয়েছিল। এসব প্রতিবেদন নিয়ে এখন পর্যন্ত হোয়াইট হাউস বা মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) কোনো মন্তব্য করেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *