বাংলাদেশ থেকে আমদানি পণ্যের শুল্ক ৩৫ নির্ধারণ করলেন ট্রাম্প-newsedge24

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা বৈশ্বিক শুল্কের বেশিরভাগ অবৈধ বলে রায় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সার্কিট আপিল আদালত। এই রায় ট্রাম্পের বৈদেশিক ও অর্থনৈতিক নীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

৭-৪ ভোটে দেওয়া এই রায়ে আদালত বলেছে, ট্রাম্প আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (আইইইপিএ) এর অধীনে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা অতিক্রম করেছেন। আদালতের ১২৭ পৃষ্ঠার রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, আইইইপিএ-তে ‘শুল্ক’ বা এর প্রতিশব্দ যেমন ‘ট্যাক্স’ বা ‘ডিউটি’ কোথাও উল্লেখ নেই এবং প্রেসিডেন্টের শুল্ক আরোপের ক্ষমতায় স্পষ্ট সীমাবদ্ধতাও নেই। ফলে, শুল্ক ও কর আরোপের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতেই রয়েছে। আদালত আরও বলেছে, “১৯৭৭ সালে আইইইপিএ পাশের সময় কংগ্রেসের উদ্দেশ্য ছিল না যে প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের সীমাহীন ক্ষমতা দেওয়া হবে।”

ট্রাম্প গত এপ্রিলে ‘লিবারেশন ডে’ ঘোষণা করে বিশ্বের প্রায় সব দেশের ওপর ১০ শতাংশ মৌলিক শুল্ক এবং বেশ কয়েকটি দেশের ওপর ‘পারস্পরিক শুল্ক’ আরোপ করেছিলেন। তিনি বাণিজ্য ঘাটতিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে আইইইপিএ-র অধীনে এই শুল্ক জারি করেছিলেন। এছাড়া, কানাডা, মেক্সিকো ও চীনের ওপর মাদক পাচারের অজুহাতে পৃথক শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। তবে আদালত এই শুল্কগুলোকে ‘অবৈধ ও আইনের পরিপন্থী’ বলে রায় দিয়েছে।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতি কার্যকর: বাংলাদেশের পণ্যে ৩৬.৫% শুল্ক

আদালত ট্রাম্প প্রশাসনকে সুপ্রিম কোর্টে আপিলের সুযোগ দিতে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত শুল্ক বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এই রায় এমন সময় এসেছে যখন ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতা নিয়ে আরেকটি মামলাও সুপ্রিম কোর্টে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফলে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে বড় ধরনের আইনি সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ট্রাম্প এই রায়ের তীব্র সমালোচনা করে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, “এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে তা যুক্তরাষ্ট্রকে ধ্বংস করে দেবে। অত্যন্ত পক্ষপাতদুষ্ট আপিল আদালত ভুলভাবে বলেছে আমাদের শুল্ক তুলে নিতে হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হবে।” তিনি আরও বলেন, “এই শুল্ক তুলে নিলে দেশ আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে। আমাদের শক্তিশালী থাকতে হবে।”

হোয়াইট হাউসের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছিলেন, শুল্ক বাতিল করা হলে ১৯২৯ সালের মহামন্দার মতো আর্থিক বিপর্যয় ঘটতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি দেশগুলোর কাছে ট্রিলিয়ন ডলার ফেরত দিতে ব্যর্থ হবে। এই রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক কমানোর চুক্তি করা দেশগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আরও পড়ুন: চীনের উপর ২০০% শুল্ক আরোপ করার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

এই মামলা দুটি মূল মামলার পরিপ্রেক্ষিতে উঠেছিল, যেগুলো দায়ের করেছিল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্য। মে মাসে নিউইয়র্কভিত্তিক কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডও এই শুল্ক অবৈধ বলে রায় দিয়েছিল। এই রায় ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের শুল্কের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, কারণ সেগুলো ভিন্ন আইনের অধীনে আরোপিত। সুপ্রিম কোর্ট যদি মামলাটি গ্রহণ করে, তবে ছয়জন রিপাবলিকান নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারপতি, যাদের মধ্যে তিনজন ট্রাম্পের নিয়োগকৃত, এই শুল্কের বৈধতা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে আইনি বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক প্রভাব এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *