যুক্তরাজ্যে অভিবাসন নীতি-newsedge4

যুক্তরাজ্যে অভিবাসীদের জন্য স্থায়ী বসবাসের পথকে আরও কঠোর করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে লেবার সরকার। নতুন নীতি অনুযায়ী, অভিবাসীদের একটি স্থায়ী চাকরি, সরকারি ভাতা থেকে বিরত থাকা এবং সম্প্রদায়ে স্বেচ্ছাসেবী কাজের মাধ্যমে সামাজিক অবদান প্রমাণ করতে হবে।

এছাড়া উচ্চমানের ইংরেজি দক্ষতা এবং অপরাধমুক্ত রেকর্ডও থাকতে হবে। সোমবার লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এই পরিকল্পনা ঘোষণা করেন, যা কট্টর-ডানপন্থী রিফর্ম ইউকে-র অভিবাসনবিরোধী প্রস্তাবের বিরুদ্ধে লেবারের কৌশলগত পদক্ষেপ।

বর্তমান নীতি ও নতুন প্রস্তাব

বর্তমানে, যুক্তরাজ্যে পাঁচ বছর বসবাসকারী ব্যক্তিরা, যাদের পরিবার দেশটিতে রয়েছে, অথবা যেকোনো ভিসায় ১০ বছর আইনত থাকা ব্যক্তিরা ‘অনির্দিষ্টকালীন থাকার অনুমতি’ (ইন্ডেফিনিট লিভ টু রিমেইন) পাওয়ার যোগ্য। এই অনুমতি বসবাস, কাজ, পড়াশোনা এবং সরকারি ভাতার অধিকার দেয়, এবং পরবর্তীতে ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য আবেদনের পথ খোলে।

তবে নতুন প্রস্তাবে অভিবাসীদের জন্য জাতীয় বীমা প্রদান, সমাজসেবা এবং ইংরেজি দক্ষতার মতো শর্ত যুক্ত হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “অভিবাসীদের এই দেশে অধিকার অর্জন করতে হবে, কেবল থাকার মাধ্যমে নয়, সমাজে অবদান রাখার মাধ্যমে।”

এই ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে যখন রিফর্ম ইউকে ‘অনির্দিষ্টকালীন থাকার অনুমতি’ পুরোপুরি বাতিল করে প্রতি পাঁচ বছরে নতুন ভিসার জন্য আবেদনের প্রস্তাব দিয়েছে, যা বিদ্যমান স্থায়ী বাসিন্দাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। জাতীয় জরিপে এগিয়ে থাকা এই দলের নীতিকে প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার ‘বর্ণবাদী’ বলে সমালোচনা করে বলেন, “এটি দেশকে বিভক্ত করবে।” তিনি রিফর্ম নেতা নাইজেল ফারাজের ‘মিথ্যা প্রতিশ্রুতি’ নিয়ে শ্রমজীবী মানুষের সমর্থন হারানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের মন্তব্য নির্লজ্জ মিথ্যাচার: রূপা হক

লেবার সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী র‍্যাচেল রিভস ‘ব্রিটেনের পুনর্গঠনে বিনিয়োগ’ এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করবেন। এই সম্মেলন লেবার সরকারের অভিবাসন ও অর্থনৈতিক নীতির নতুন দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে, যা রিফর্ম ইউকে-র ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *