মস্তিষ্ক খেকো অ্যামিবা-newsedge4

ভারতের কেরালা রাজ্যে মস্তিষ্ক খেকো অ্যামিবা নামে পরিচিত নাইগ্লেরিয়া ফাউলেরি সংক্রমণে ২০২৫ সালে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই বছরে ৬৯ জন এই মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে বেশিরভাগ মৃত্যু গত কয়েক সপ্তাহে ঘটেছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রী ভীনা জর্জ জানিয়েছেন, প্রদেশটি বর্তমানে মারাত্মক স্বাস্থ্য সংকটের মুখোমুখি।

অনলাইন এনডিটিভি-র প্রতিবেদন অনুসারে, এই রোগে আক্রান্তদের বয়স তিন মাস থেকে ৯১ বছর পর্যন্ত। সর্বশেষ, কোজিকোডে এক তিন মাসের শিশু এবং ৫২ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যুর ঘটনা সাম্প্রতিক। এই অ্যামিবা মানুষের মস্তিষ্কের টিস্যুকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যা প্রাইমারি অ্যামিবিক মেনিনজোয়েনসেফালাইটিস (পিএএম) নামে পরিচিত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই রোগে আক্রান্তরা মারা যান, মৃত্যুহার প্রায় ৯৭ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি একটি পানিবাহিত রোগ। উষ্ণ পানিতে, যেমন পুকুর, হ্রদ, নদী, কূপ বা অস্বচ্ছ পানির সাঁতার, গোসল বা নাক ধোয়ার সময় অ্যামিবা নাকের পথে প্রবেশ করে মস্তিষ্কে পৌঁছে যায়। গ্রীষ্মকাল এবং বর্ষাকালে তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং বৃষ্টির কারণে এই জীবাণুর প্রাদুর্ভাব বাড়ে। আক্রান্তদের মধ্যে মাথাব্যথা, জ্বর, বমি এবং ঘাড় শক্ত হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যায়, যা সংক্রমণের ১ থেকে ৯ দিনের মধ্যে প্রকাশ পায়।

আরও পড়ুন: বিলুপ্ত জিনে গেঁটে বাত ও ফ্যাটি লিভার চিকিৎসায় নতুন আশা

কেরালার স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৩-২০২৫ সালে কেসের সংখ্যা বাড়ছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত। রাজ্যে ইতিমধ্যে পরীক্ষামূলক ল্যাব সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। স্বাস্থ্য কর্মীরা সতর্ক করে বলছেন, দূষিত পানিতে মাথা ডুবিয়ে না থাকাই সবচেয়ে ভালো প্রতিরোধ।

কেরালায় ২০১৬ সাল থেকে এই রোগের প্রথম মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড হয়েছে, কিন্তু ২০২৫ সালে এর প্রাদুর্ভাব অভূতপূর্ব। সরকার এখন পর্যন্ত কোনো ক্লাস্টার চিহ্নিত করেনি, তবে সতর্কতা অব্যাহত রাখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *