গাজায় দুর্ভিক্ষ চলছে-newsedge24

জাতিসংঘের একটি সংস্থা প্রথমবারের মতো নিশ্চিত করেছে যে, গাজা উপত্যকায় দুর্ভিক্ষ চলছে। দ্য ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেইজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি) জানিয়েছে, গাজার পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ ‘ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও মৃত্যুর’ মুখোমুখি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

আইপিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় খাদ্য নিরাপত্তার অবস্থা সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গাজা শহর এবং এর আশপাশের এলাকাগুলো দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছে বলে সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে। এছাড়া, সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর শেষ নাগাদ দেইর আল-বালাহ এবং খান ইউনিস এলাকাও ‘বিপর্যয়কর পরিস্থিতির’ শিকার হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গাজার এই দুর্ভিক্ষ ‘সম্পূর্ণরূপে মানুষের তৈরি’ এবং এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আইপিসি জানিয়েছে, যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সহায়তার সীমিত প্রবেশাধিকার এবং অত্যাবশ্যকীয় সেবার ভাঙন এই সংকটের প্রধান কারণ। তবে, আইপিসি নিজে থেকে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করে না; বরং তাদের বিশ্লেষণ সরকার, সংস্থা ও সংগঠনগুলোকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।

এদিকে, ইসরায়েল আইপিসির প্রতিবেদনকে ‘মিথ্যা ও পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে দাবি করেছে। তারা গাজা শহরে দুর্ভিক্ষের দাবি ‘দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান’ করেছে। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা মানবিক সহায়তার প্রবেশাধিকার বাড়ানোর জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে, তবে হামাস এই প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করছে।

আরও পড়ুন: গাজা যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে ইসরায়েলে বিক্ষোভ

আইপিসি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজায় খাদ্যাভাব, তীব্র অপুষ্টি এবং ক্ষুধাজনিত মৃত্যু বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত জুলাই মাসে গাজা শহরে অপুষ্টির মাত্রা পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে চারগুণ বেড়েছে, যা ১৬.৫ শতাংশে পৌঁছেছে। এছাড়া, এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে ২০,০০০-এর বেশি শিশু তীব্র অপুষ্টির চিকিৎসা নিয়েছে, যার মধ্যে ৩,০০০ জন গুরুতর অপুষ্টিতে ভুগছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গাজার পরিস্থিতিকে ‘মানবিক বিপর্যয়’ হিসেবে অভিহিত করে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি, জিম্মিদের মুক্তি এবং মানবিক সহায়তার অবাধ প্রবেশাধিকারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “এটি আমাদের সকলের মানবতার পরীক্ষা, যা আমরা ব্যর্থ হতে পারি না।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *