পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন-newsedge4

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশাসন ও পুলিশকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের বক্তব্যকে ‘উচ্চাকাঙ্ক্ষামূলক ও পুলিশের জন্য হেয়প্রতিপন্নকারী’ বলে উল্লেখ করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। সোমবার এক প্রতিবাদলিপিতে সংগঠনটি বলেছে, এ ধরনের মন্তব্য গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের উসকানি দেয় এবং পুলিশের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

গত শনিবার (২২ নভেম্বর) চট্টগ্রামে এক সমাবেশে শাহজাহান চৌধুরী বলেছিলেন, “যার যার নির্বাচনী এলাকায় প্রশাসনকে আমাদের আন্ডারে নিয়ে আসতে হবে। আমাদের কথায় উঠবে, বসবে, গ্রেপ্তার করবে, মামলা করবে। পুলিশকে আপনার পেছনে পেছনে হাঁটতে হবে। থানার ওসি সকালে আপনার অনুষ্ঠান জেনে নিয়ে আপনাকে প্রটোকল দেবে।” এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়েছে, সংবিধান ও আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ পুলিশ পরিচালিত হয়। গত ১৭ বছরে পুলিশের কিছু উচ্চাকাঙ্ক্ষী সদস্যকে ব্যবহার করে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হয়েছে, যা জনগণের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি করেছে। তবে ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর পুলিশ আগের চেয়ে আরও নিরপেক্ষ ও পেশাদারভাবে দায়িত্ব পালন করছে।

অ্যাসোসিয়েশন আরও বলেছে, আসন্ন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে পুলিশ কোনো দল বা মতের পক্ষে অবস্থান না নিয়ে দায়িত্ব পালন করছে। রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের দিন শেষ—এখন পুলিশ আইন, বিধি ও জনকল্যাণকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করে এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিতে বিশ্বাস করে।

আরও পড়ুন: ক্ষমতা বা আসনের জন্য সমঝোতা করবে না এনসিপি

জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এখনও এই প্রতিবাদের জবাব পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের বক্তব্য পুলিশের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *