ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম সাগর (৩০) ছিলেন একজন সদা হাস্যোজ্জ্বল এবং মেধাবী ব্যক্তিত্ব, যিনি সবার কাছে ছিলেন প্রিয়। রাজশাহীর একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাসের পর তিনি লাইব্রটরি স্কুলে ভর্তি হন। সেখান থেকে এসএসসি পাস করে পাইলট হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে পাবনা ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হন। তিনি ছিলেন এই কলেজের ৩৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।
তৌকির ইসলাম সাগর প্রায় এক বছর আগে বিয়ে করেন এবং তার স্ত্রীর সঙ্গে ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। তার ব্যবসায়ী বাবা তোহরুল ইসলাম, মা সালেহা খাতুন এবং ছোট বোন সৃষ্টি ইসলাম রাজশাহীর উপশহরের একটি বাসায় বসবাস করতেন। সৃষ্টি বর্তমানে রাজশাহীর বারিন্দ মেডিক্যাল কলেজের এমবিবিএসের শিক্ষার্থী। তৌকিরের গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নের কৃষ্ণচন্দ্রপুর গ্রামে।
২১ জুলাই ২০২৫, সোমবার, তৌকির ইসলাম সাগরের জীবনের একটি বিশেষ দিন ছিল। এই দিনে তিনি তার প্রথম একক (সলো) ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। একজন শিক্ষানবিস পাইলট যখন যথেষ্ট দক্ষতা অর্জন করেন এবং তার প্রশিক্ষক তাকে এককভাবে বিমান চালানোর জন্য প্রস্তুত মনে করেন, তখনই তাকে সলো ফ্লাইটে পাঠানো হয়। এই ফ্লাইটে পাইলটকে সম্পূর্ণ একা সব সিদ্ধান্ত নিতে হয়—রানওয়ে নির্বাচন, টেক-অফ, ইন-ফ্লাইট ম্যানুভারিং এবং ল্যান্ডিংসহ সবকিছু তার নিয়ন্ত্রণে থাকে। তৌকিরের সহকর্মীরা এই ফ্লাইট সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন এবং তার এই মাইলফলক উদযাপনের জন্য জলখেলা ও মিষ্টি বিতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, দুপুর ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়নের মাত্র ১২ মিনিটের মধ্যে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ বিমানটি উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনের কাছে বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় ১৯ জন নিহত হয়েছেন দগ্ধ ১৬৪ জনকে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট সহ বিভিন্ন হাস্পাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিমানটিতে আগুন ধরে যায়, এবং তৌকির গুরুতর আহত হন। তাকে দ্রুত সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু বিকেল পৌনে ৪টার দিকে তিনি মারা যান।
আরও পড়ুন: উত্তরায় বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত
তৌকিরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার গ্রাম কৃষ্ণচন্দ্রপুরে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয় বাসিন্দারা তার দাদার বাড়িতে ছুটে গিয়ে শোক প্রকাশ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অনেকে তৌকিরের ছবি দিয়ে শোকবার্তা প্রকাশ করেছেন।
তৌকিরের পরিবারকে বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে করে বিকেল ৫টার দিকে রাজশাহী বিমানবন্দর থেকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। তার মেজ চাচা মতিউর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

























































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































