রুহুল কবির রিজভী-010143-NewsEdge24

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের নিয়ন্ত্রণ সুইচ ভারতের হাতে। তারা চাইলে যেকোনো মুহূর্তে বাংলাদেশে আসা ১৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে।

আজ বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।

রিজভী বলেন, ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া হলেও আসলে তাকে সাইডলাইনে রাখার পরিকল্পনা ছিল। তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বিমসটেক চেয়ারম্যান হিসেবে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে তিনি সেই সাইডলাইন প্রত্যাখ্যান করে দেশের মর্যাদা রক্ষা করেছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী ব্রিকসে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরদিনই আদানির একটি ইউনিট নষ্ট হয়ে যাওয়ার খবর প্রচার করা হয়। “এ ধরনের ঘটনার পেছনের রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ বুঝতে কি পিএইচডি লাগে?”—প্রশ্ন করেন তিনি।

শেখ হাসিনাসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ১৪০০ ছাত্র-জনতাকে হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্তদের ভারতে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়েও কঠোর সমালোচনা করেন রিজভী। তিনি বলেন, আগে একটি ঘটনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করা হলেও এখন এতগুলো খুনির বিষয়ে ভারত নীরব কেন—এ প্রশ্ন সাধারণ মানুষের মনে জেগেছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, বর্তমান সংকট এই সরকারের সৃষ্টি নয়। এটি বৈশ্বিক বাস্তবতার ফল। সরকার ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির উদ্যোগ নিচ্ছে। একই সঙ্গে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আগের সরকারের তুলনায় আড়াই থেকে তিন গুণ বেড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন: ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে সঠিক মর্যাদা দিয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি: স্পিকার

ডাকসু ও আশপাশের এলাকায় সাম্প্রতিক ঘটনার কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, একটি মহল ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তির প্রতিশোধ নিতে চাইছে এবং মধুর ক্যান্টিনকে ‘বিশ্রাম মঞ্জিল’ বানানোর চেষ্টা করছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা ও জনগণ যেকোনো চক্রান্ত ব্যর্থ করে দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষা করবে।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সিনিয়র সহ-সভাপতি আলমগীর কবির, সাধারণ সম্পাদক ড. কেএম আই মন্টিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *