সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল-সৌদ -newsedge4

সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল-সৌদ সম্প্রতি আম্মানে জর্ডান, মিসর, এবং বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, আরব মন্ত্রীদের একটি প্রতিনিধিদলকে পশ্চিম তীরে প্রবেশে বাধা দেওয়ার মাধ্যমে ইসরায়েল তাদের চরমপন্থী মনোভাব এবং শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতি অনীহা প্রকাশ করেছে। এই প্রতিনিধিদল রামাল্লায় ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছিল, যা ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

প্রিন্স ফয়সাল বলেন, “ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যানের প্রমাণ। এটি আমাদের দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করার সংকল্পকে আরও দৃঢ় করেছে।” তিনি গাজায় টেকসই যুদ্ধবিরতি এবং ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য জাতিসংঘের রেজুলেশন কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

এই ঘটনা ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব এবং ফ্রান্সের যৌথ উদ্যোগের গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। আগামী ১৭ থেকে ২০ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সহ-সভাপতিত্বে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এই সম্মেলনের লক্ষ্য হল ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাঠামো নিয়ে আলোচনা করা।

মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাদর আবদেলআত্তি জানিয়েছেন, সম্মেলনে গাজায় যুদ্ধবিরতি, নিরাপত্তাব্যবস্থা, এবং পুনর্গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে, যাতে ফিলিস্তিনিরা তাদের ভূখণ্ডে নিরাপদে বসবাস করতে পারে এবং ইসরায়েলের উচ্ছেদ পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আইমান সাফাদি বলেন, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে ন্যায্য সমাধানের সুযোগ নষ্ট করছে।

ইসরায়েলি বংশোদ্ভূত আরব পার্লামেন্ট সদস্য আইমান ওদে সৌদি-ফ্রান্স উদ্যোগের সমর্থন করে বলেন, এটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পথ খুলতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েল সরকার ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে দুর্বল করতে চায়, কারণ তারা এটিকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি হিসেবে দেখে।

ইসরায়েলের একজন কর্মকর্তা এই সফরকে ‘উসকানিমূলক’ বলে অভিহিত করেছেন, দাবি করে যে এটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রচারের জন্য ছিল। এই ঘটনা ইসরায়েলের উপর ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক চাপের প্রতিফলন, বিশেষ করে জাতিসংঘ এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকে, যারা দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে। জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১৪৫টি ইতিমধ্যে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, এবং পশ্চিম ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ এখনও তা করেনি।

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ব্যতীত ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে না। প্রিন্স ফয়সাল গাজায় ইসরায়েলি হামলা এবং ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতির প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা করেছেন, জাতিসংঘের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জোট গঠনের মাধ্যমে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *