জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলুপ্ত করে ‘রাজস্ব নীতি’ এবং ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা’ নামে দুটি পৃথক বিভাগ গঠন করা হয়েছে। গত সোমবার (১২ মে ২০২৫) রাতে এ সংক্রান্ত ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ’ জারি করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই সিদ্ধান্ত এনবিআরের কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করলেও অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, এতে রাজস্ব আদায়ে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না এবং কর্মকর্তাদের দুশ্চিন্তার কারণ নেই।
মঙ্গলবার (১৩ মে ২০২৫) সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “রাজস্ব আদায়ে প্রভাব পড়বে না। এখন পর্যন্ত রাজস্ব আদায় গত বছরের তুলনায় ২ শতাংশ বেশি হয়েছে। এটি হতাশাব্যাঞ্জক নয়। আমরা আরও প্রত্যাশা করছি। অন্তত গত বছরের তুলনায় কম হবে না।” তিনি জানান, এনবিআরের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা ও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, বিশ্বের সব দেশেই রাজস্ব নীতি প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের জন্য পৃথক বিভাগ থাকে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, “যাঁরা নীতি প্রণয়ন করবেন, তাঁদের পেশাদার হতে হবে। তাঁদের জিডিপি, অর্থনীতি, পরিসংখ্যানের ওপর গভীর ধারণা থাকতে হবে। একই ব্যক্তি নীতি প্রণয়ন এবং রাজস্ব সংগ্রহ দুটোই করতে পারেন না।” তিনি এই বিভাজনকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট প্রসঙ্গে সালেহউদ্দিন বলেন, “বাজেটে বড় ঘাটতি থাকবে না। প্রকল্প ও এডিপি বাস্তবায়ন বাস্তবতার ভিত্তিতে করা হবে। ব্যাংক থেকে ধার বা টাকা ছাপিয়ে বাজেট বাস্তবায়ন করা হবে না। কিছুটা ঘাটতি থাকবে, তবে তা পূরণে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনায় আমরা মোটামুটি সফল।”
এদিকে, বিসিএস আয়কর ও কাস্টমস ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মতামত উপেক্ষা করে এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এনবিআরের কর্মকর্তাদের মধ্যে এ নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অনেকে এই সিদ্ধান্তকে তড়িঘড়ি এবং অপরিণামদর্শী বলে মনে করছেন। তবে অর্থ উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, এই পুনর্গঠন রাজস্ব ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ ও পেশাদার করবে।
নতুন গঠিত রাজস্ব নীতি বিভাগ রাজস্ব সংক্রান্ত নীতি প্রণয়ন, কর ব্যবস্থার সংস্কার এবং অর্থনৈতিক পরিকল্পনার দিকে মনোযোগ দেবে। অন্যদিকে, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ আদায়, তদারকি এবং কর প্রশাসনের বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে। এই বিভাজনের ফলে এনবিআরের প্রায় ৮,০০০ কর্মকর্তা ও কর্মচারী নতুন বিভাগে পুনর্বিন্যাস করা হবে।

































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































