যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পাল্টা শুল্ক কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশের ওপর শুল্কহার ৩৫% থেকে কমিয়ে ২০%-এ নামিয়ে আনা হয়েছে, যা রপ্তানিকারকদের জন্য স্বস্তির কারণ হয়েছে। অন্যদিকে, প্রতিযোগী দেশ ভারতের ওপর বুধবার (৬ আগস্ট ২০২৫) নতুন করে ২৫% শুল্ক আরোপ করায় মোট শুল্কভার ৫০%-এ পৌঁছেছে। চীনের ওপর আরোপিত শুল্ক ৫৪%। অন্যান্য প্রতিযোগী দেশের তুলনায় বাংলাদেশ এখন সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে, যা রপ্তানি ও বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
শুল্ক কমায় বাংলাদেশের সুবিধা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৩১ জুলাই এক নির্বাহী আদেশে ৬৭টি দেশের জন্য নতুন শুল্কহার ঘোষণা করেন, যা ৭ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের শুল্ক ৩৫% থেকে ২০%-এ নামিয়ে আনা হয়েছে, যাকে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস “কূটনৈতিক বিজয়” হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ভিয়েতনাম ও শ্রীলংকার ওপরও ২০% শুল্ক আরোপিত হয়েছে, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার জন্য ১৯%, এবং অন্যান্য দেশের জন্য ভিত্তিগত ১০% শুল্ক নির্ধারণ হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভারত (৫০%) ও চীনের (৫৪%) ওপর উচ্চ শুল্কের কারণে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “শুল্কের প্রভাবে মার্কিন বাজারে পণ্যের মূল্য বাড়বে, যা চাহিদা কমাতে পারে। তবে বাংলাদেশের শুল্কহার তুলনামূলক কম হওয়ায় রপ্তানির নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।” তিনি উৎপাদনশীলতা, শ্রমিক দক্ষতা ও ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করার পরামর্শ দেন।
রপ্তানি ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা
বাংলাদেশ তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ, এবং যুক্তরাষ্ট্র এর একক বৃহত্তম বাজার। বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, “ভারত ও চীনের তুলনায় কম শুল্কের কারণে ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানিতে ৩০% খরচ কমাতে পারবে। এটি ব্যবসা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করবে।” তিনি জানান, চীন থেকে ক্রয়াদেশ স্থানান্তরের প্রবণতা অব্যাহত থাকবে, যা বাংলাদেশের জন্য সুবিধাজনক।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতি কার্যকর: বাংলাদেশের পণ্যে ৩৬.৫% শুল্ক
অর্থনীতিবিদদের মতে, “এই শুল্কহার বাংলাদেশের জন্য মহাবিপদ থেকে সুযোগে রূপ নিয়েছে। তবে আত্মতুষ্টিতে ভুগলে চলবে না। উৎপাদন, সরবরাহ, বন্দরের দক্ষতা, জ্বালানি সরবরাহ, এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি শ্রমিক অসন্তোষ দূর করার ওপরও জোর দেন।
ভারত ও চীনের ওপর প্রভাব
ভারতের গবেষণা প্রতিষ্ঠান জিটিআরআই জানিয়েছে, ৫০% শুল্কের কারণে মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্যের দাম বাড়বে, যা রপ্তানি ৪০-৫০% কমিয়ে দিতে পারে। চীনের ওপর ৫৪% শুল্ক আরোপের ফলে তাদের পণ্যও ব্যয়বহুল হবে, যা বাংলাদেশের পক্ষে সুবিধা তৈরি করেছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবে।
চ্যালেঞ্জ ও প্রস্তুতি
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই সুযোগ কাজে লাগাতে বাংলাদেশকে উৎপাদন ক্ষমতা, বন্দরের দক্ষতা, এবং জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “বিনিয়োগ বাড়তে সময় লাগবে, কারণ বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোয়।” বিজিএমইএ সভাপতি জানান, তারা ইতিমধ্যে এই সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য কৌশল প্রণয়ন শুরু করেছেন।


































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































