ইসলামী ব্যাংক-২০০-কর্মী-newsedge24

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি চাকরিবিধি ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ২০০ কর্মীকে বরখাস্ত করেছে এবং ৪ হাজার ৯৭১ জনকে ওএসডি (অন সার্ভিস ডিউটি) করেছে। এসব কর্মী বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের আমলে নিয়োগ পেয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। এই সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত বেশিরভাগ কর্মী চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা, বিশেষ করে এস আলমের নিজ এলাকা পটিয়ার। অভিযোগ রয়েছে, জাল সনদ ও বক্সের বায়োডাটা ব্যবহার করে বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হতো। এস আলমের পিএস ও সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আকিজ উদ্দিনসহ সহয আমাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হতো। অনেক কর্মীর শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল না; তারা বিজিসি ট্রাস্ট, পোর্ট সিটি ও সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির জাল সার্টিফিকেট ব্যবহার করতেন। এমন কর্মীর সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার।

গত বছর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এস আলম গ্রুপ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ হারায়। এরপর ব্যাংক ৫ হাজার ৩৮৫ জনের যোগ্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেয়। গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ-র মাধ্যমে বিশেষ মূল্যায়ন পরীক্ষা হয়, যাতে মাত্র ৪১৪ জন অংশ নেন। ধরা পড়ার ভয়ে বাকিরা পরীক্ষায় না এলে ২০০ জনকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বরখাস্ত এবং ৪,৯৭১ জনকে ওএসডি করা হয়।

ব্যাংক সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে জনবল ছিল ১৩ হাজার ৫৬৯, যার মধ্যে চট্টগ্রামের ৭৭৬ জন। বর্তমানে জনবল ২২ হাজার, যার ১১ হাজার চট্টগ্রামের, বেশিরভাগ পটিয়ার। এই অবৈধ নিয়োগে ৬৩ জেলার চাকরিপ্রত্যাশীরা বঞ্চিত হন এবং ব্যাংকের গ্রাহকসেবার মান ক্ষুণ্ন হয়।

ইসলামী ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামাল উদ্দিন জসিম বলেন, “যারা পরীক্ষায় আসেননি, তাদের ওএসডি করা হয়েছে। শৃঙ্খলা ভঙ্গে ২০০ জনকে টার্মিনেট করা হয়েছে। আমরা মানবিক দিক বিবেচনা করেছি। এস আলমের আমলে ১১ হাজার নিয়োগের প্রায় ১০ হাজার এখনও আছেন। তাদের নিয়োগ অস্বচ্ছ ছিল। ওএসডি কর্মীদের বিষয়ে শিগগির সিদ্ধান্ত হবে।”

আরও পড়ুন: সাকিব আল হাসানের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানে নতুন দুদক কর্মকর্তা নিয়োগ

ব্যাংক জানায়, কয়েক কর্মী পরীক্ষার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করলে বাংলাদেশ ব্যাংক নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ইসলামী ব্যাংক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আইন মেনে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। পরীক্ষা ও চাকরি রাখা-না-রাখা ব্যাংকের এখতিয়ার। আইবিএ-র মাধ্যমে পরীক্ষায় আদালত অবমাননা হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *