গাজা ও ইয়েমেনে চলমান সংঘাত- আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও মানবিক সংকট

ঢাকা, ১৪ এপ্রিল ২০২৫: গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের অবিরাম বোমাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। গত রবিবার গাজা জুড়ে ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে ৩৭ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ছয় ভাই ছিলেন। তারা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিদের খাবার সরবরাহ করছিলেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজা শহরের আল-আহলি আরব হাসপাতালে ইসরাইলি বোমা হামলার পর চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে এক ফিলিস্তিনি শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলের চলমান যুদ্ধে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৫০,৯৪৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,১৬,১৫৬ জন আহত হয়েছেন। সরকারি মিডিয়া অফিস ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ হাজার হাজার মানুষকে মৃত ধরে মৃতের সংখ্যা ৬১,৭০০-এর বেশি বলে আপডেট করেছে।

অন্যদিকে, ইয়েমেনের রাজধানী সানার কাছে মার্কিন হামলায় ছয়জন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী ইসরাইলের প্রধান বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে, যা এই অঞ্চলের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

ফিলিস্তিনিদের জন্য ইইউ’র তহবিল বৃদ্ধি

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) জন্য তিন বছরের জন্য প্রায় ১.৬ বিলিয়ন ইউরো (১.৮ বিলিয়ন ডলার) আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। ইইউ’র ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের কমিশনার ডুবরাভকা সুইকা রয়টার্সকে বলেছেন, এই তহবিল ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের আর্থিক ঘাটতি পূরণে সহায়তা করবে এবং সংস্কারের পথে অগ্রসর হতে উৎসাহিত করবে। তবে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ ফিলিস্তিনি আমদানি কর থেকে সংগৃহীত প্রায় ১.৮ বিলিয়ন ডলার কর-রাজস্ব আটকে রেখেছে, যা তাদের আর্থিক সংকটকে আরও তীব্র করেছে।

দক্ষিণ গাজায় নতুন হামলা

ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরাইলি বাহিনী খান ইউনিসের খুজা’আ শহরে একটি বাড়িতে বোমা হামলা চালিয়েছে, যাতে কমপক্ষে পাঁচজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের ইউরোপীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া, রাফাহ উপকূলে ইসরাইলি গুলিতে একজন জেলে আহত এবং উত্তর রাফাহতে আরও কয়েকটি আবাসিক বাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে।

তুরস্কের নিন্দা ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সমর্থনের নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ এই যুদ্ধের বিরোধিতা করলেও, যতক্ষণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ ইসরাইলকে সমর্থন দেবে, ততক্ষণ এই গণহত্যা বন্ধ হবে না। ফিদান সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নীতিমালাকে এই যুদ্ধের ধারাবাহিকতার জন্য দায়ী করেছেন। তবে তিনি বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জানুয়ারির যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন এবং স্থায়ী শান্তির জন্য পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতি কেবল স্বল্পমেয়াদে নয়, দীর্ঘমেয়াদেও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর।

ইসরাইলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকলেও, ফিদানের মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে শক্তিশালী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থনের কারণে এই সংঘাত বন্ধ করা কঠিন হচ্ছে। গাজা ও ইয়েমেনে চলমান মানবিক সংকট এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এই অঞ্চলের জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *