বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রেল প্রকল্প বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভারতীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “এই মুহূর্তে আমরা বাংলাদেশকে নির্মাণ সামগ্রী বা অন্য কোনো জিনিসপত্র সরবরাহ করছি না। বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে সংযোগ রুটের জন্য প্রকল্পের তহবিল স্থগিত করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। তবে ভারতের অভ্যন্তরে নির্মাণ কাজ পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলেছে।”

আঞ্চলিক বাণিজ্যকে গতিশীল করতে এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে সংযোগ জোরদার করতে ভারত উত্তর ভারতের রেল অবকাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি নেপাল ও ভুটানের মাধ্যমে বিকল্প রেল সংযোগ পরিকল্পনা খতিয়ে দেখছে। সূত্র মারফত জানা গেছে, এই বিকল্প রুটের জন্য ৩৫০০-৪০০০ কোটি রুপির একটি প্রকল্প বিবেচনাধীন রয়েছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য বাংলাদেশের রেল নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং সংকীর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’ থেকে মুক্তি পাওয়া।

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও নতুন কৌশল
২০২৪ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের পরিমাণ ছিল ১২.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশকে ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তবে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে ভারত বাংলাদেশের মাধ্যমে সংযোগ প্রকল্পগুলো স্থগিত করেছে। এর পরিবর্তে নয়াদিল্লি দেশীয় এবং বিকল্প আঞ্চলিক কৌশলের দিকে ঝুঁকছে।

ভারতের নতুন পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে:

  • বিহার ও উত্তর প্রদেশে রেলপথের সম্প্রসারণ: রেলপথের দ্বিগুণ ও চতুর্মাত্রিকীকরণের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ সংযোগ শক্তিশালী করা।

  • নেপাল-ভারত রেল সংযোগ: বিরাটনগর-নিউ মাল (১৯০ কিমি) এবং গলগলিয়া-ভদ্রপুর-কাজলি বাজার (১২.৫ কিমি) রুটে প্রকল্প বাস্তবায়ন।

  • পশ্চিমবঙ্গ-বিহার সংযোগ: কুমেদপুর-আমবাড়ি ফালাকাটা (১৭০ কিমি) রুটে নতুন রেলপথ নির্মাণ।

  • ভুটানের সঙ্গে সংযোগ: ভারত-নেপাল রেল চুক্তি এবং ভুটানের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তি কাজে লাগিয়ে নতুন রেল রুট তৈরি।

এই রুটগুলো লজিস্টিকভাবে জটিল হলেও বাংলাদেশের ওপর নির্ভরতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে রেল সংযোগ প্রকল্পগুলো উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে এবং শিলিগুড়ি করিডোরের ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি হ্রাস করবে।

বাংলাদেশের সঙ্গে স্থগিত প্রকল্প
বাংলাদেশের রেল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয়সহ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রকল্পগুলো ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত শিলিগুড়ি করিডোরের ওপর ভারতের নির্ভরতা কমাতে ডিজাইন করা হয়েছিল। তবে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এই প্রকল্পগুলোর তহবিল ও নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *