ঘোষণা-প্রতিক্রিয়া জানালো ভারত-newsedge4

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের উপর ২৫% শুল্ক এবং রাশিয়া থেকে তেল ও অস্ত্র ক্রয়ের জন্য অতিরিক্ত “জরিমানা” আরোপের ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভারত সরকার জানিয়েছে, তারা কৃষক, উদ্যোক্তা এবং মাইক্রো, স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজেস (এমএসএমই)-এর স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

বুধবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “গত কয়েক মাস ধরে ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি ন্যায্য, ভারসাম্যপূর্ণ এবং পারস্পরিকভাবে উপকারী দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের জন্য আলোচনায় নিয়োজিত রয়েছে। আমরা এই লক্ষ্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে, “কৃষক, উদ্যোক্তা এবং এমএসএমই-এর স্বার্থ রক্ষা এবং প্রচারের উপর সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়।” সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সম্পন্ন বিস্তৃত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তির (সিইটিএ) উদাহরণ দিয়ে ভারত জানিয়েছে, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তারা সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

ট্রাম্পের ঘোষণা থেকে স্পষ্ট যে, রাশিয়া থেকে ভারতের তেল ও অস্ত্র ক্রয়ের কারণে তিনি এই কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তবে ভারত আগেই এ বিষয়ে পাল্টা জবাব দিয়ে এসেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বারবার বলেছেন, ভারত তার এবং নাগরিকদের স্বার্থকে প্রাধান্য দেবে এবং যে দেশ সবচেয়ে ভালো দামে তেল সরবরাহ করবে, সেখান থেকেই কিনবে। এই সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামীও রাশিয়া থেকে তেল ক্রয়ের বিষয়ে বলেছেন, “রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে। অন্যান্য দেশ যখন তাদের পুরনো উৎস থেকে জ্বালানি কিনছে, তখন আমরা জ্বালানি বাজার থেকে প্রায় বিতাড়িত হয়েছি এবং দামও বেড়ে গেছে। আমরা বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম জ্বালানি ভোক্তা এবং ৮০% এর বেশি আমদানি করি। আমাদের অর্থনীতি বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলছেন?”

ভারতের প্রতিক্রিয়া

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার প্রভাব পর্যালোচনা করা হচ্ছে। গত এপ্রিল থেকে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাঁচ দফা আলোচনা হয়েছে, এবং ষষ্ঠ দফা আলোচনার জন্য আগামী ২৫ আগস্ট মার্কিন প্রতিনিধি দল নয়াদিল্লি সফর করবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২০২৪ সালে ১৯০ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে, কৃষি ও দুগ্ধ খাতে মার্কিন পণ্যের জন্য বাজার উন্মুক্ত করার বিষয়ে ভারতের সংরক্ষণের কারণে আলোচনায় জটিলতা রয়েছে।

এদিকে, ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর কংগ্রেস দল বিজেপি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছে। এক্স-এ একটি পোস্টে কংগ্রেস লিখেছে, “দেশ এখন নরেন্দ্র মোদীর ‘বন্ধুত্বের’ মূল্য বহন করছে।” কংগ্রেস নেতা শশী থারুর বলেছেন, এই শুল্ক আরোপ “অযৌক্তিক” এবং দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনার মধ্যে এই পদক্ষেপ সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারে।

এমএসএমই-এর উপর প্রভাব

ভারতের এমএসএমই খাত, যা রপ্তানি-নির্ভর শিল্প যেমন ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, অটো যন্ত্রাংশ, টেক্সটাইল, পোশাক, চামড়া, রত্ন ও গহনা এবং ফার্মাসিউটিক্যালের উপর নির্ভরশীল, এই শুল্কের ফলে উল্লেখযোগ্য চাপের মুখে পড়তে পারে। ইন্ডিয়া এসএমই ফোরামের প্রেসিডেন্ট বিনোদ কুমার বলেছেন, এই খাতগুলোতে অর্ডারের পরিমাণ কমে যাওয়া, লাভের মার্জিন সংকুচিত হওয়া এবং পেমেন্ট চক্র ধীর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অচলাবস্থার অবসান

ফিকি’র প্রেসিডেন্ট হর্ষ বর্ধন আগরওয়াল বলেছেন, এই শুল্ক ঘোষণা রপ্তানির উপর প্রভাব ফেলবে, তবে তিনি আশা করছেন এটি স্বল্পমেয়াদী হবে এবং শিগগিরই একটি স্থায়ী বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হবে। পিডব্লিউসি ইন্ডিয়ার অর্থনৈতিক উপদেষ্টা আর অনেন ব্যানার্জি মনে করেন, উচ্চ শুল্কের প্রয়োগকাল স্বল্প হতে পারে। তবে, গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (জিটিআরআই) সতর্ক করে বলেছে, ভারতকে সতর্ক থাকতে হবে যাতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপে একতরফা চুক্তিতে আটকা না পড়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *