মোজতবা খামেনি-mojtaba khamenei-newsedge24

ইরানের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস মোজতবা খামেনিকে দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি। প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দ্বিতীয় ছেলে মোজতবা এখন থেকে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করবেন। নতুন নেতৃত্বের অধীনে প্রথম দিনেই ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান, যা ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর ৩০তম পর্যায়ের অংশ বলে দাবি করা হয়েছে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনাকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। এটি নতুন নেতৃত্বের অধীনে তেহরানের প্রথম সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ। হামলার পর পুরো অঞ্চলজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ইসরায়েলি জরুরি পরিষেবা ও বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেক ক্ষেপণাস্ত্র রুখে দিতে সক্ষম হয়েছে। তবে মধ্যাঞ্চলীয় শহর রিশোন লেজিয়নে একটি বাধাগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক নারী সামান্য আহত হয়েছেন।

কে এই মোজতবা খামেনি?

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৬৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন মোজতবা খামেনি। তিনি প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছয় সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয়। তেহরানের ধর্মীয় আলাভি স্কুলে মাধ্যমিক শিক্ষা লাভ করেন তিনি। ১৭ বছর বয়সে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় স্বল্প সময়ের জন্য সেনাবাহিনীতে কাজ করেছিলেন। ১৯৯৯ সালে ধর্মীয় পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পবিত্র শহর কোমে যান।

তবে মোজতবা খামেনি বেশিরভাগ সময় নিজেকে আড়ালে রেখেছেন। তিনি কখনো কোনো সরকারি পদে ছিলেন না এবং জনসমক্ষে কোনো বক্তৃতা বা সাক্ষাৎকার দেননি। তার খুব অল্প সংখ্যক ছবি ও ভিডিওই প্রকাশ্যে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগেই বলেছিলেন, খামেনির ছেলে মোজতবা তার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি এও বলেছেন, তার অনুমোদন ছাড়া যে-ই ক্ষমতায় আসুক না কেন, সে দীর্ঘদিন টিকতে পারবে না। ইসরায়েলও খামেনির উত্তরসূরি নির্বাচনের আগেই সতর্কবার্তা দিয়েছিল—প্রয়াত নেতার যে কোনো উত্তরসূরির বিরুদ্ধেই তারা অভিযান চালিয়ে যাবে।

আরও পড়ুন:

ইরানে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা ব্যর্থ হবে, অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করুন: চীন

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বাসভবন ও কার্যালয় কম্পাউন্ড ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই হামলাতেই তার মৃত্যু হয় বলে প্রথমে দাবি করেন ট্রাম্প। কয়েক ঘণ্টা পর ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে খামেনির মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *