যুক্তরাষ্ট্র ইরাকের বাগদাদে অবস্থিত তাদের দূতাবাস থেকে অপ্রয়োজনীয় কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং সাম্প্রতিক নিরাপত্তা হুমকির কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা ইরাকে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোকে ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে। এর ফলে তেলের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। বিবিসি’র অনলাইন প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের সতর্ক করা হয়েছে যে, ইসরাইল শিগগিরই ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে। এই আশঙ্কার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য থেকে কিছু নাগরিক ও কূটনীতিকদের সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইরান পাল্টা আঘাত হিসেবে ইরাকে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ আগামী রবিবার ওমানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে ষষ্ঠ দফার আলোচনায় মিলিত হবেন। তবে, সাম্প্রতিক সময়ে এই আলোচনার গতি স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তিনি ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ নিয়ে আগের মতো আশাবাদী নন।
ওয়াশিংটনের কেনেডি সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, “এই অঞ্চল বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। তাই আমরা কিছু আমেরিকানকে সরে যেতে বলেছি।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেব না।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সাম্প্রতিক ৪০ মিনিটের ফোনালাপ ছিল ‘উত্তেজনাপূর্ণ’।
ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পারমাণবিক আলোচনায় ফল না পাওয়া গেলে এবং যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিলে, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা আঘাত করবে। তিনি বলেন, “আমরা নিষ্ক্রিয় থাকব না। আমাদের নাগালের মধ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো রয়েছে।”
রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ কুয়েত, বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের পরিবারদের স্বেচ্ছায় প্রত্যাহারের অনুমোদন দিয়েছেন। এই ঘোষণার পর তেলের বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ৬৯.১৮ ডলারে পৌঁছে, যা ৪ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই উত্তেজনা তেলের সরবরাহ শৃঙ্খলায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
বুধবার যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সতর্কতা জারি করে জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হতে পারে। এই পথগুলো দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয়।
ইরাক, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা একটি বিরল দেশ, যেখানে ২,৫০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। তবে, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরাকের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে, যদিও ২০২৪ সাল থেকে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলা কিছুটা কমেছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা স্থবির হওয়ায় এই সরিয়ে নেয়ার পদক্ষেপকে কেউ কেউ তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে দেখছেন। তবে, অনেক পর্যবেক্ষক মনে করেন, এটি বাস্তব নিরাপত্তা হুমকির প্রতিক্রিয়া। ইরানের জাতিসংঘ মিশন বলেছে, “অপ্রতিরোধ্য শক্তির হুমকি সত্যকে বদলাবে না। ইরান পারমাণবিক অস্ত্র চায় না, এবং মার্কিন সামরিকতাবাদ শুধু অস্থিরতা বাড়ায়।”
ইরাকের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এক সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এই সরিয়ে নেয়ার পদক্ষেপ শুধু ইরাকের জন্য নয়, মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশের জন্য প্রযোজ্য। তবে, ইরাকি কর্মকর্তারা বলছেন, তারা এমন কোনো নিরাপত্তা হুমকির তথ্য পাননি যা এই সরিয়ে নেয়ার প্রয়োজন সৃষ্টি করে।








































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































