যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র দ্বিতীয় দিনে ইরানের পাল্টা হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত এবং পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) আজ সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এটি এই অভিযানে মার্কিন বাহিনীর প্রথম প্রাণহানির ঘটনা। কয়েকজন সেনা সামান্য শার্পনেল আঘাত ও কনকাশনজনিত সমস্যায় আহত হয়েছেন, যাদের দ্রুত দায়িত্বে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে।
এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক ঘাঁটি, নেতৃত্বের লক্ষ্যবস্তু এবং সম্ভবত পারমাণবিক স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালায়। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুসহ দেশটির শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বের বড় অংশ নিশ্চিহ্ন হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক পাল্টা আক্রমণে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে মার্কিন ঘাঁটি, জাহাজ এবং মিত্র দেশগুলোর দিকে। যদিও সেন্টকম দাবি করেছে, ইরানের দাবি করা ইউএসএস অ্যাব্রাহাম লিঙ্কন বিমানবাহী রণতরীতে হামলা সম্পূর্ণ মিথ্যা—ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যের কাছাকাছিও পৌঁছায়নি।
এই অভিযানের পটভূমি অনেকদিনের। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রক্সি গ্রুপগুলোর মাধ্যমে হামলা এবং ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের শত্রুতা যুক্তরাষ্ট্রকে এই পদক্ষেপে বাধ্য করেছে বলে ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা দাবি করছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এসে এই অভিযানকে তিনি ‘আগাম পরিকল্পনার চেয়ে এগিয়ে’ বলে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু ইরানের পক্ষ থেকে এটিকে ‘অবৈধ আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়ে প্রতিরোধের অঙ্গীকার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তেল আভিভে ৪০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত
এই হতাহতের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় ধাক্কা। গত কয়েক দশকে ইরানের সঙ্গে সরাসরি বড় যুদ্ধ এড়িয়ে চলা ওয়াশিংটন এখন প্রথমবারের মতো সেনা হারানোর মুখোমুখি হলো। এটি অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে—যেখানে যুদ্ধবিরোধী গোষ্ঠীগুলো ইতিমধ্যে সমালোচনা শুরু করেছে। অন্যদিকে, ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা বাড়তে পারে খামেনির মৃত্যুর পর উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়ে।






































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































