মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-us foreign press center-010164-NewsEdge24

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারত নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে—এমন আশা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার নিউইয়র্কে এক ‘অন-ব্যাকগ্রাউন্ড’ ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা ট্রাম্প প্রশাসনের এ অবস্থান তুলে ধরেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার সঙ্গে কী হওয়া উচিত সে বিষয়ে ওয়াশিংটন এখনো কোনো নির্দিষ্ট মতামত দেয়নি। নিউইয়র্ক ফরেন প্রেস সেন্টারে ‘একটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও সার্বভৌম দক্ষিণ এশিয়ার সমর্থনে মার্কিন নীতি’ শিরোনামে এ ব্রিফিং হয়। এতে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় মাথায় নিয়ে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

এ প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, “এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি। আমরা বুঝতে পারছি, বিষয়টি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে উত্তেজনার একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই আমরা আশা করছি, তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমাধানে পৌঁছাবে। হাসিনার সঙ্গে কী হওয়া উচিত, তা আমরা এখনো নির্দিষ্ট করে জানাইনি।”

আরও পড়ুন: শেখ হাসিনার বক্তব্যে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন: টেলিগ্রাফ

আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কিছু বলতে চান না। বাংলাদেশ ও বিএনপির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক খুবই ভালো। নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে চান তারা এবং বাংলাদেশকে শক্তিশালী ও নিরাপদ করার প্রচেষ্টায় পাশে আছেন। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারকেই নিতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে—এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে কর্মকর্তা বলেন, ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ জটিল অঞ্চলে অবস্থিত। যুক্তরাষ্ট্র প্রতিটি দেশকে নিজ পরিমণ্ডলে অবস্থান করতে উৎসাহ দেয় এবং সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা সুসংহত রাখতে সহায়তা করতে চায়। তারা কোনো দেশকে বেছে নিতে বাধ্য করছে না, বরং বিকল্প হিসেবে থাকতে চায়।

ব্রিফিংয়ের আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ ও সেন্ট্রাল এশিয়া বিষয়ক উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিথানী মরিসন দক্ষিণ এশিয়ার পরিস্থিতি ও ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি নিয়ে বক্তব্য দেন। এরপর তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে ফটো সেশনে অংশ নেন।

আরও পড়ুন:

হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে ভারতের কোনো ভূমিকা নেই: জয়সওয়াল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *