থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন-paetongtarn shinawatra-newsedge24

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন শিনাওয়াত্রাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে দেশটির সাংবিধানিক আদালত। কম্বোডিয়ার সাবেক নেতা হুন সেনের সঙ্গে তার একটি ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার পর তীব্র বিতর্ক ও জনরোষের মুখে এই রায় দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার (১ জুলাই ২০২৫) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর প্রকাশ করেছে।

ফাঁস হওয়া ফোনালাপে পেতংতার্ন হুন সেনকে ‘চাচা’ বলে সম্বোধন করেন এবং একজন থাই সেনা কমান্ডারের সমালোচনা করেন। এছাড়া কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত বিরোধ নিরসনে ‘নমনীয়তা’ দেখানোর প্রস্তাব দেন। এই কথোপকথনকে থাইল্যান্ডে জাতীয় মর্যাদা ও সামরিক কর্তৃত্বের অবমূল্যায়ন হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, যা জাতীয়তাবাদী ও রক্ষণশীল মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ফলে তার পদচ্যুতির দাবিতে আদালতে আবেদন জমা পড়ে। সাংবিধানিক আদালত ৭-২ ভোটে তার বিরুদ্ধে নৈতিক আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ গ্রহণ করে তাকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেয়। পেতংতার্নকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ে ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী সুরিয়া জুনগ্রুনগ্রুয়াংকিত ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন।

পেতংতার্ন শিনাওয়াত্রা হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন শিনাওয়াত্রার কন্যা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইংলাক শিনাওয়াত্রার ভাতিজি। থাকসিন ২০০৬ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে এবং ইংলাক ২০১৪ সালে সাংবিধানিক আদালতের রায়ে ক্ষমতাচ্যুত হন। পেতংতার্নের এই বরখাস্তের মধ্য দিয়ে শিনাওয়াত্রা পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তিনি পূর্ণ মেয়াদ শেষ করার আগেই ক্ষমতা হারালেন।

পেতংতার্নের জনপ্রিয়তা গত মার্চে ৩০.৯% থেকে জুনে ৯.২%-এ নেমে আসে। অর্থনীতি চাঙা করতে ব্যর্থতা, জোট সরকারের দুর্বলতা এবং সামরিক সমালোচনার কারণে তিনি তীব্র চাপের মুখে ছিলেন। এর মধ্যে তার নেতৃত্বাধীন পিউ থাই দলের জোট থেকে গুরুত্বপূর্ণ রক্ষণশীল শরিক দল ভুমজাইথাই সম্প্রতি বেরিয়ে যায়, যা তার সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

এদিকে, পেতংতার্নের পিতা থাকসিন শিনাওয়াত্রা বর্তমানে থাইল্যান্ডের কঠোর ‘লেস ম্যাজেস্ট’ আইনের অধীনে রাজপরিবারের অবমাননার অভিযোগে বিচারাধীন। ২০১৫ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাজপরিবার নিয়ে মন্তব্যের জন্য তিনি এই মামলার মুখোমুখি। এই আইনের অধীনে দোষী সাব্যস্ত হলে ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। ২০২৩ সালে ১৫ বছরের নির্বাসনের পর থাকসিন দেশে ফিরে আসেন, যার পেছনে সেনাবাহিনী ও রক্ষণশীল গোষ্ঠীর সঙ্গে একটি গোপন রাজনৈতিক সমঝোতার কথা বলা হয়। এই সমঝোতার মাধ্যমে পিউ থাই দল জোট সরকার গঠন করে।

ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনায় পেতংতার্ন ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন এবং দাবি করেছেন, এটি কূটনৈতিক কৌশলের অংশ ছিল। তবে সমালোচকরা বলছেন, তার মন্তব্য দেশের মর্যাদা ও সেনাবাহিনীর প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করেছে। এই ঘটনা থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে আরও অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি করেছে, যেখানে সামরিক বাহিনী, রাজতন্ত্রপন্থী গোষ্ঠী এবং শিনাওয়াত্রা পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *