ইরানের পার্লামেন্ট রোববার (২২ জুন, ২০২৫) হরমুজ প্রণালি বন্ধের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। তবে, এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কাউন্সিলের অনুমোদন প্রয়োজন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে কুয়েত টাইমস ও রয়টার্স। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। এটি বন্ধ হলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিতে পারে এবং তেলের দাম ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কমান্ডার ইসমাইল কুরাইশি ইয়াং জার্নালিস্ট ক্লাবকে জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্ত ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে। গত ১৩ জুন ইসরাইল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা শুরু করে, এবং এক সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।
হরমুজ প্রণালি, ইরান ও ওমানের মধ্যে মাত্র ৩৩ কিলোমিটার প্রশস্ত একটি সংকীর্ণ সমুদ্রপথ, যার মাধ্যমে বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ এবং এক-তৃতীয়াংশ তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করা হয়। এই রুট দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল এবং কাতার থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ এলএনজি বিশ্ববাজারে পৌঁছায়। এশিয়ার বাজার, বিশেষ করে চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া, এই তেলের প্রধান ক্রেতা।
সৌদি আরব প্রতি বছর ৫.৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এই প্রণালি দিয়ে রপ্তানি করে, যা মোট প্রবাহের ৩৮ শতাংশ। তবে, বিকল্প পাইপলাইন যেমন সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন বা আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ পাইপলাইনের সক্ষমতা সীমিত এবং ইতিমধ্যে প্রায় পূর্ণ ব্যবহারে রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে তেলের দাম এক লাফে ১০০ ডলারের উপরে চলে যেতে পারে, যা মুদ্রাস্ফীতি বাড়াবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করবে। লেবাননের অর্থনীতিবিদ জাসেম আজাকা বলেন, “তেলের দাম বাড়লে মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে, কারণ ৯৫ শতাংশ পণ্যের উৎপাদনে তেলের ভূমিকা রয়েছে।” সৌদি ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক সালমান আল-আনসারী সতর্ক করে বলেন, “হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এমন এক প্রতিক্রিয়া শুরু হবে, যার জন্য কেউ প্রস্তুত নয়।”
বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলো, যেমন চীন ও ভারত, এই অবরোধের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ভারত তার মোট তেল আমদানির প্রায় ২ মিলিয়ন ব্যারেল এই প্রণালি দিয়ে পায়। যদিও ভারত রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশ থেকে তেল আমদানি করে, তবুও দাম বৃদ্ধি এড়ানো যাবে না।









































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































