ট্রাম্পের ‘হামলা স্থগিত’ ঘোষণা কৌশলগত চাল, ‘আলোচনার কথা সত্য নয়’ : তেহরান

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বললেন, আলোচনা চলায় ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা স্থগিত করা হয়েছে। অথচ তেহরান থেকে এলো ভিন্ন সুর। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের কোনো সংলাপ চলছে না। ট্রাম্পের ঘোষণাকে ‘সময়ক্ষেপণের কৌশল’ আখ্যা দিয়েছে তেহরান।

গতকাল সোমবার (২৩ মার্চ) বিশ্ববাজারে তেলের দামে ভূমিধস পতনের খবর আসার সঙ্গে সঙ্গেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় জোর আলোচনা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমকে জানান, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি স্থাপনায় সামরিক হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। কারণ, চলমান আলোচনার মধ্য দিয়ে সংকটের সমাধানের পথ খুঁজছেন তারা।

ট্রাম্পের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে স্বস্তি তৈরি করলেও তা মেনে নেয়নি ইরান। তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক কঠোর বিবৃতিতে জানিয়ে দেয়, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের সংলাপ বা আলোচনা চলছে না। বিবৃতিতে বলা হয়, “ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের মূল উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম কমানো এবং তাঁর সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সময় ক্ষেপণ করা।”

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, “আমেরিকা নিজেরাই এই যুদ্ধ শুরু করেছে। তারা আমাদের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধের জন্য আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এখন তারা আলোচনার নামে জনমত গড়ার চেষ্টা করছে, যা মেনে নেওয়ার মতো নয়।”

আঞ্চলিক উদ্যোগ ও কূটনৈতিক জটিলতা

ইরান অবশ্য স্বীকার করেছে, উত্তেজনা কমাতে আঞ্চলিক দেশগুলোর পক্ষ থেকে কিছু ‘উদ্যোগ’ রয়েছে। তবে তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, এই উদ্যোগগুলোর বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গেই যোগাযোগ করা উচিত। ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রই এই সংঘাতের সূচনা করেছে, তাই সংকট নিরসনের দায়িত্বও তাদের।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই হঠাৎ ‘আলোচনা’র কথা তুলে ধরার পেছনে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক দুই ধরনের কারণই কাজ করছে। একদিকে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি সংকট তৈরি হচ্ছিল, অন্যদিকে আগামী নির্বাচনের আগে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে জনসমর্থন ধরে রাখার কৌশলও এতে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু ইরানের নেতৃত্ব এই ‘কূটনৈতিক অঙ্গভঙ্গি’কে বিশ্বাস করতে নারাজ।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় মার্কিন হামলার পর থেকেই উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে। জবাবে ইরান বন্ধ করে দেয় বিশ্বজ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। অপরদিকে ইরানের অবস্থান, তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর হামলা করার অধিকার কারও নেই।

ট্রাম্পের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেলেও ইরানের এই পাল্টা বিবৃতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। জ্বালানি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান যদি স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে আলোচনা হচ্ছে না, তাহলে আগামী দিনে তেলের বাজারে আবারও অস্থিরতা ফিরে আসতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে না দিলে সরবরাহ সংকট কাটবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *