হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান-newsedge24

১৪ জুন ২০২৫, ইসরাইলের সামরিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এক্স-এ এক বার্তায় জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। তারা বলেছে, “আমাদের অনুমতি ছাড়া একটি মাছিও এই জলসীমা অতিক্রম করতে পারবে না।” এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্ব তেল বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, তেলের দাম ৭-১৪% বেড়ে ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল ৭৪.২৩ থেকে ৭৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা মার্চ ২০২২-এর পর সর্বোচ্চ একদিনের বৃদ্ধি।

হরমুজ প্রণালি, ইরান ও ওমানের মাঝে অবস্থিত, বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট। এটি পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করে। প্রতিদিন প্রায় ২০.৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন হয়, যা বিশ্বের মোট তেল খরচের প্রায় ২০% এবং এলএনজি বাণিজ্যের ২০%। সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারের তেল ও গ্যাস রপ্তানি এই রুটের ওপর নির্ভরশীল।

ইরানের এই ঘোষণার পর তেলের দামে তীব্র উত্থান ঘটেছে। ব্রেন্ট ক্রুড ৭.৮৬% বেড়ে ৭৪.৮১ ডলার এবং ডব্লিউটিআই ৮.৪২% বেড়ে ৭৩.৭৭ ডলারে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, যদি এই বন্ধ দীর্ঘমেয়াদি হয়, তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের চেয়ে তিন গুণ বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এটি বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে, যেখানে জ্বালানি মূল্য ভোক্তা মূল্য সূচকের একটি বড় অংশ।

ইরান দীর্ঘদিন ধরে হরমুজ প্রণালিকে ভূরাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। ১৯৮০-৮৮ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধে (ট্যাঙ্কার ওয়ার) ইরান তেল ট্যাঙ্কারে হামলা করলেও প্রণালি বন্ধ করেনি। ২০১৯ সালে ইরান বেশ কয়েকটি জাহাজ আটক করে এবং ২০২৩ সালে মার্কিন নৌবাহিনীর সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। বর্তমানে ইসরাইলের হামলার পর ইরানের এই পদক্ষেপকে “শেষ অস্ত্র” হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের উপস্থিতি সত্ত্বেও কার্যকর করা কঠিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *