আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ঠিক দু’দিন আগে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পোস্টাল ভোটের বড় অগ্রগতি। ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধিত প্রবাসীদের মধ্যে ৪ লাখ ৭১ হাজার ৯৫৭টি পোস্টাল ব্যালট ইতোমধ্যে দেশে এসে পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার সকালে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন সংক্রান্ত ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান এ তথ্য জানিয়ে নির্বাচনকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তোলার এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপের সাক্ষ্য দিয়েছেন।
এবারই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ভোটের ব্যবস্থা চালু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ লঞ্চের পর থেকে প্রবাসী ভোটাররা দূর থেকে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। এই অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করে ব্যালট পেপার পাওয়া, ভোট দেওয়া এবং ডাকযোগে ফেরত পাঠানো—সবকিছু ডিজিটাল ও ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতির সমন্বয়ে সম্পন্ন হয়। এতে প্রবাসে বসবাসকারী লাখ লাখ বাংলাদেশি তাদের দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সরাসরি যুক্ত হতে পেরেছেন।
সালীম আহমাদ খান জানান, সকাল ১০টা পর্যন্ত অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধিত প্রবাসীদের কাছে মোট ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি ব্যালট পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৫ লাখ ২৮ হাজার ২৩৩ জন ব্যালট গ্রহণ করেছেন এবং ৫ লাখ ১২ হাজার ৯১৬ জন ভোটদান সম্পন্ন করেছেন। প্রবাসীদের পাঠানো ব্যালটগুলো ধীরে ধীরে দেশে ফিরছে, যা নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া, দেশের অভ্যন্তরে পোস্টাল ভোটারদের (যেমন সরকারি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ইত্যাদি) ব্যালটও এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত। মোট নিবন্ধিত পোস্টাল ভোটারের সংখ্যা ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন, যার মধ্যে প্রবাসীদের অংশ উল্লেখযোগ্য।
এই উদ্যোগকে অনেকে গণতন্ত্রের বিস্তার হিসেবে দেখছেন। প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের মাধ্যমে বড় অবদান রাখেন, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এবারের নির্বাচনে পোস্টাল ভোট চালু হওয়ায় সেই বঞ্চনার অবসান ঘটছে। তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়—আন্তর্জাতিক ডাক ব্যবস্থার বিলম্ব, ব্যালটের নিরাপত্তা এবং সময়মতো গণনায় অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কিছু উদ্বেগ রয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটের দিন বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত পৌঁছানো ব্যালট গণনায় বিবেচনা করা হবে।
প্রবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে এই খবর উৎসাহের সঞ্চার করেছে। অনেকে বলছেন, এটি শুধু ভোট দেওয়ার সুযোগ নয়, বরং দেশের সঙ্গে মানসিক যোগসূত্রকে আরও মজবুত করার একটি মাধ্যম। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় বসবাসকারী বাংলাদেশিরা এতে সক্রিয় অংশ নিয়েছেন।
মূল তথ্যসমূহ:
– প্রবাসী পোস্টাল ব্যালট দেশে পৌঁছেছে: ৪ লাখ ৭১ হাজার ৯৫৭টি।
– মোট ব্যালট পাঠানো হয়েছে: ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি।
– ব্যালট গ্রহণকারী প্রবাসী: ৫ লাখ ২৮ হাজার ২৩৩ জন।
– ভোটদান সম্পন্ন: ৫ লাখ ১২ হাজার ৯১৬ জন।
– মোট পোস্টাল ভোটার নিবন্ধন (দেশ-প্রবাস মিলিয়ে): ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন।
– নির্বাচনের তারিখ: ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার)।
এই পোস্টাল ভোটের সাফল্য নির্বাচন কমিশনের ডিজিটাল উদ্যোগের প্রমাণ। ভবিষ্যতে এই ব্যবস্থা আরও উন্নত করে প্রবাসীদের অংশগ্রহণকে স্থায়ী রূপ দেওয়া গেলে বাংলাদেশের গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী ও প্রতিনিধিত্বমূলক হয়ে উঠবে। নির্বাচনের ফলাফলে প্রবাসী ভোটের প্রভাব কতটা পড়বে, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।













































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































