বৃটেনের সাবেক ট্রেজারি মন্ত্রী ও হ্যাম্পস্টেড-হাইগেট আসনের লেবার এমপি টিউলিপ সিদ্দিক বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতির মামলাকে ‘রাজনৈতিক প্রতিশোধ’ হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছেন। বৃটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে অনেকেই অন্যায় করেছে, তাদের বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু আমি তাদের কেউ নই।” ঢাকার একটি বিশেষ আদালতে ১১ আগস্ট টিউলিপসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার শুনানি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
অভিযোগ ও টিউলিপের প্রতিক্রিয়া
টিউলিপের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি শেখ হাসিনার প্রভাব খাটিয়ে ঢাকার পূর্বাচলে তার মা, ভাই ও বোনের জন্য একটি প্লট বরাদ্দ করেছেন। তিনি এই অভিযোগকে ‘পুরোপুরি অবাস্তব’ বলে দাবি করেছেন। টিউলিপ সিদ্দিক বলেন, “আমি এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সমন পাইনি। কয়েক দিনের মধ্যে বিদেশে একটি প্রহসনের বিচারে আমাকে বসানো হচ্ছে, অথচ অভিযোগ আসলে কী, তা আমি জানিই না।” বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনে টিউলিপের অনুপস্থিতিতেই মামলার বিচার হবে। যদিও বৃটেন ও বাংলাদেশের মধ্যে কোনো প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই, দোষী সাব্যস্ত হলে বিষয়টি নতুন করে বিবেচনায় আসতে পারে।
অন্য একটি অভিযোগে বলা হয়, ২০০৪ সালে লন্ডনের কিংস ক্রসে টিউলিপ সিদ্দিক আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট একজনের কাছ থেকে একটি ফ্ল্যাট উপহার পেয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ফ্ল্যাটটি তার গডফাদারের, যিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। তিনি স্বীকার করেছেন, অতীতে বাবা-মায়ের ভুল তথ্যের কারণে তিনি সংবাদমাধ্যমে বলেছিলেন যে ফ্ল্যাটটি তার বাবা-মা কিনে দিয়েছেন। এছাড়া, ক্রিকলউডে নিজস্ব বাড়ি থাকা সত্ত্বেও তিনি একজন বাংলাদেশি ডেভেলপারের বাসায় থাকার বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি বলেন, নিরাপত্তার হুমকির কারণে তাকে হঠাৎ স্থানান্তর করতে হয়েছিল এবং তিনি বাজারদরে ভাড়া দিয়েছেন।
রূপপুর প্রকল্পের অভিযোগ
কিছু অজ্ঞাত ওয়েবসাইটে প্রকাশিত খবরে দাবি করা হয়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের রুশ চুক্তি থেকে টিউলিপ সিদ্দিক ৫ বিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করেছেন। ২০১৩ সালের একটি ছবিতে তাকে শেখ হাসিনা ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা যায়, যা এই অভিযোগের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়। টিউলিপ বলেন, তিনি তখন মস্কোতে বেড়াতে গিয়েছিলেন এবং কোনো রাজনৈতিক বৈঠকে অংশ নেননি। তিনি এই অভিযোগকে ‘অযৌক্তিক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশে ছাত্রনেতৃত্বাধীন আন্দোলনের মধ্যে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের সরকারের পতন ঘটে। শত শত মানুষের মৃত্যু ও স্বৈরাচারী শাসনের অভিযোগে তীব্র প্রতিবাদের মুখে শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা সামরিক হেলিকপ্টারে ভারতে পালিয়ে যান। এই অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে টিউলিপ সিদ্দিকের নামে নানা বিতর্ক তৈরি হয়। তিনি বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে ‘বাংলাদেশের নোংরা রাজনীতি’ তার জীবনকে ওলটপালট করে দিয়েছে। তিনি ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।
আরও পড়ুন: রুশনারা আলী পদত্যাগ করলেন যে কারনে
গত জুলাইয়ে বৃটেনের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টির জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার টিউলিপকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেন। তিনি অর্থনৈতিক সংস্কার ও লন্ডনের আর্থিক খাত পুনর্মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশে উত্থাপিত অভিযোগের কারণে তিনি বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। তিনি নিজে থেকে মন্ত্রীসভার আচরণবিধি উপদেষ্টা স্যার লরি ম্যাগনাসের কাছে যান। দুই সপ্তাহের তদন্তে ম্যাগনাস জানান, টিউলিপ আচরণবিধি ভঙ্গ করেননি, তবে পারিবারিক সম্পর্ক থেকে উদ্ভূত ‘ভাবমূর্তির ঝুঁকি’ সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিত ছিল। স্টার্মারের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও টিউলিপ মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করেন, যাতে সরকারের কাজে বিভ্রান্তি না আসে।













































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































