ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় গতকাল শনিবার সকালে তিনি তেহরানে নিজ কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় শহীদ হন। আজ রোববার সকালে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে এ খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনেও এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, শনিবার ভোরে তেহরানে নিজ কার্যালয়ে আয়াতুল্লাহ খামেনিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানায়, ওই সময় তিনি ‘তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনরত’ ছিলেন। আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট তাসনিম নিউজ এজেন্সি বলছে, নিজ কার্যালয়ে খামেনির মৃত্যু প্রমাণ করে যে তিনি আত্মগোপনে গেছেন বলে যে খবর ছড়ানো হচ্ছিল, সেগুলো ছিল ‘শত্রুর মনস্তাত্ত্বিক লড়াই’।
বিবিসি শনিবার প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, খামেনির প্রাসাদটি ধসে পড়েছে এবং চারপাশ কালো হয়ে গেছে—যা বড় ধরনের বিস্ফোরণের স্পষ্ট চিহ্ন।
ইরান সরকার ঘোষণা করেছে, আয়াতুল্লাহ খামেনির শাহাদাতের পর ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে। একই সঙ্গে সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। দেশের সকল সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে বলেছে, “আমরা একজন মহান নেতাকে হারিয়েছি এবং তার শোকে মুহ্যমান। মানবতার সবচেয়ে নিষ্ঠুর সন্ত্রাসী ও জল্লাদদের হাতে তার শহীদ হওয়া এই মহান নেতার বৈধতার প্রমাণ এবং তার আন্তরিক সেবার প্রতি জনগণের স্বীকৃতির নিদর্শন। ইরানি জাতির প্রতিশোধের হাত তাদের ছাড়বে না।”
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ইরানে দুজন সুপ্রিম লিডার পেয়েছে—প্রথম আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি এবং তারপর খামেনি। তিনি দেশটির সামরিক বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চীফ এবং সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ ছিলেন।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যের ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা
এই হত্যাকাণ্ড ইরানের রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ নেমে এসেছে। অনেকে খামেনির ছবি হাতে “প্রতিশোধ, প্রতিশোধ” স্লোগান দিচ্ছেন। আইআরজিসি ও সেনাবাহিনী রাস্তায় মোতায়েন করা হয়েছে।






































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































