নেতানিয়াহু বিরোধী বিক্ষোভ-010244-NewsEdge24

ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচনের তিন দিন আগে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে তেল আবিবে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ চলছে। গতকাল শনিবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে জানায়, তেল আবিবের উন্মুক্ত চত্বর হোস্টেজেস স্কোয়ারে বিক্ষোভ করেন তারা।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভকারীরা সরকারের বিরোধিতার পাশাপাশি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার সময় নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতার স্বাধীন তদন্ত দাবি করেন। আগামী মঙ্গলবার ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নির্বাচন। ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর এটিই ইসরায়েলের প্রথম সাধারণ নির্বাচন।

আল জাজিরা জানিয়েছে, ‘অক্টোবর কাউন্সিল’ নামে একটি সংগঠন ‘হোস্টেজ স্কয়ার’ বা বন্দিদের চত্বরে এ বিক্ষোভের ডাক দেয়। এটি তিন বছর আগে গাজায় ধরে নিয়ে যাওয়া ইসরায়েলি বন্দিদের পরিবারগুলোর প্রতিষ্ঠিত একটি গোষ্ঠী। গাজায় গণহত্যামূলক যুদ্ধের আগে হামাসের হামলা প্রতিরোধ করতে সরকারের ব্যর্থতার জন্য জবাবদিহিতা দাবি করতে সমাবেশের আয়োজন করে তারা।

সমাবেশের আগে অক্টোবর কাউন্সিল এক্স-এ লিখেছে, নির্বাচনের তিন দিন আগে সত্য উদ্ঘাটন, জবাবদিহিতা দাবি এবং একটি রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের লক্ষ্যে তিন বছর ধরে যে সংগ্রাম চলছে, তার চূড়ান্ত কর্মসূচীটির আয়োজন করব আমরা।

এদিকে ইসরায়েলের প্রামাণ্য সংবাদপত্র হারেৎজ পত্রিকা জানিয়েছে, ইসরায়েলের অন্যান্য স্থানেও সরকারবিরোধী বিক্ষোভের জন্য প্রতিবাদকারীরা জড়ো হচ্ছিলেন। এদিন তেল আবিবের বিক্ষোভ সমাবেশে বিরোধী দলগুলোর শীর্ষ নেতারাও অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ইয়াশার দলের গাডি আইজেনকোট, যিনি নেতানিয়াহুর প্রধান মধ্য-ডানপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত।

দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের তথ্য অনুযায়ী, সমাবেশে আইজেনকোটকে স্বাগত জানিয়ে বিক্ষোভকারীরা ‘কে আসছেন? পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী!’ স্লোগান দেন। ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা ইয়াইর গোলানও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

ইসরায়েলি নাগরিক ও আইনজীবী ড্যান আদিন এক্সে দেওয়া পোস্টে বিক্ষোভে বিপুল মানুষের উপস্থিতির কথা জানিয়ে লেখেন, ডেমোক্র্যাটস দলের মিছিলে রবিন স্কয়ার থেকে হোস্টেজ স্কয়ার পর্যন্ত মানুষের ঢল নেমেছে। এই সমাবেশ পরিবর্তন, আশা ও বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার জন্য ইসরায়েলকে দুষলেন এরদোয়ান

জানা গেছে, বিক্ষোভের আগে অক্টোবর কাউন্সিল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সতর্ক করে জানায়, সরকারপন্থী কিছু পক্ষ সমাবেশে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালাতে পারে। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সংগঠনটি জানায়, এ বিষয়ে তারা পুলিশ কমিশনারের কাছে জরুরি চিঠি পাঠিয়েছে। ক্ষমতাসীন জোটের সঙ্গে যুক্ত কিছু পক্ষ ওই রাতের সমাবেশে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

অক্টোবর কাউন্সিলের মূল দাবি, ৭ অক্টোবরের হামলা প্রতিরোধে ব্যর্থতার জন্য দায়ী ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। তবে নেতানিয়াহুর জোট সরকার একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। এর পরিবর্তে সরকার একটি রাজনৈতিক কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, কমিশনের অর্ধেক সদস্য নিয়োগ করবে সরকার এবং বাকি অর্ধেক নিয়োগ করবেন বিরোধী দলের আইনপ্রণেতারা। তবে বিরোধী নেতারা জানিয়েছেন, রাজনীতিবিদদের মাধ্যমে গঠিত এমন কমিশন তারা বয়কট করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *