পাকিস্তানের আবদালি ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা-newsedge24

পাকিস্তান শনিবার দাবি করেছে, তারা মাঝারি পাল্লার ‘আবদালি’ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। জম্মু ও কাশ্মিরের পহেলগাঁওয়ে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদের এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পাকিস্তানের একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ‘সিন্ধু’ নামক সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে এই ক্ষেপণাস্ত্রটির উৎক্ষেপণ করা হয়।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মিডিয়া শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ ও অপারেশনাল প্রস্তুতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবং ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নত নেভিগেশন সিস্টেম ও ম্যানুভারেবিলিটি বৈশিষ্ট্যসহ প্রযুক্তিগত মাপকাঠি যাচাইয়ের জন্য এই উৎক্ষেপণ করা হয়েছে।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পরীক্ষাটি ক্ষেপণাস্ত্রের নির্ভুল লক্ষ্যবেধ ক্ষমতা এবং স্থিতিশীল উড্ডয়ন কর্মক্ষমতা প্রদর্শন করেছে।

আবদালি ক্ষেপণাস্ত্রটি ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপ করা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যার পরিসীমা ৪৫০ কিলোমিটার। এটি পাকিস্তানের প্রচলিত এবং কৌশলগত অস্ত্রাগারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা দ্রুত মোতায়েন এবং উচ্চ নির্ভুলতার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সামরিক বাহিনীর প্রধানরা এই সফল পরীক্ষার জন্য সেনাবাহিনী, বিজ্ঞানী এবং প্রকৌশলীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারা জানান, এই পরীক্ষা জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় পাকিস্তানের ‘ন্যূনতম বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ ক্ষমতা’ নিশ্চিত করেছে।

পহেলগাঁও হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর থেকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। ভারত এই হামলার জন্য পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুললেও পাকিস্তান তা অস্বীকার করেছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত ইন্দাস জলচুক্তি স্থগিত করাসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়েছে।

এই পরীক্ষার সময় পাকিস্তানের স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ডের কমান্ডার, স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানস ডিভিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *