জেডি ভান্স-newsedge24

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছেন। ফক্স নিউজের ‘দ্য স্টোরি উইথ মার্থা ম্যাককালাম’ অনুষ্ঠানে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এই দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে সংঘাত ‘মূলত আমাদের বিষয় নয়’ এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন নয়।” তিনি আরও বলেন, “আমরা শুধু তাদের উত্তেজনা কমাতে উৎসাহ দিতে পারি, কিন্তু এমন একটি যুদ্ধে জড়াতে পারি না, যা আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না।”

ভান্সের বক্তব্য ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা বিদেশি সংঘাতে সরাসরি হস্তক্ষেপ এড়ানোর পক্ষে। তিনি বলেন, “আমাদের প্রত্যাশা এবং আশা, এটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে বা, ঈশ্বর না করুন, পারমাণবিক সংঘাতে রূপ নেবে না।” যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্কর এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে কথা বলে উভয় দেশকে উত্তেজনা হ্রাসের আহ্বান জানিয়েছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে রাশিয়া-ইউক্রেন এবং হামাস-ইসরাইল সংঘাত নিয়ে ব্যস্ত। এমন পরিস্থিতিতে দক্ষিণ এশিয়ার সংঘাতে সরাসরি হস্তক্ষেপের পরিবর্তে ভারত ও পাকিস্তানকে প্রাথমিকভাবে নিজেদের মতো সমাধান খুঁজতে দিতে পারে ওয়াশিংটন। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান ভারতের সঙ্গে কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা এবং পাকিস্তানের সঙ্গে মিত্রতার ভারসাম্য বজায় রাখার প্রচেষ্টা।

যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থান

ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার হয়েছে, বিশেষ করে চীনের প্রভাব মোকাবিলায়। ভান্স গত এপ্রিলে ভারত সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করেন। অপরদিকে, ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর পাকিস্তানের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব কমলেও এটি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র রয়ে গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই সংঘাত নিয়ে মন্তব্য করে বলেছেন, “আমি ভারত ও পাকিস্তান উভয়ের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখি। আমি চাই এটি দ্রুত থামুক। যদি আমি কিছু করতে পারি, আমি সেখানে থাকব।” তবে ভান্সের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হস্তক্ষেপের পরিবর্তে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে উত্তেজনা হ্রাসের চেষ্টা করবে।

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা গত ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মিরের পাহালগামে একটি সন্ত্রাসী হামলার পর তীব্র হয়, যাতে ২৬ জন নিহত হন। ভারত এই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করলেও ইসলামাবাদ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এরপর ভারত ৭ মে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর অংশ হিসেবে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মিরে হামলা চালায়, যাতে ২৬ জন নাগরিক নিহত ও ৪৬ জন আহত হন। পাকিস্তানও পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যা ভারত প্রতিহত করে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সতর্ক করে বলেছেন, পাল্টা প্রতিক্রিয়া এখন “ধারাবাহিক” হয়ে উঠছে। দুই দিনের সংঘর্ষে প্রায় চার ডজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যা গত দুই দশকের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র সংঘাত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *