যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমান মিজৌরির হোয়াইটম্যান বিমান ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস। এই পদক্ষেপ ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনায় সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি, নাকি তেহরানের ওপর কূটনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল—তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের তথ্য অনুযায়ী, বি-২ বিমানগুলো শনিবার ভোরে হোয়াইটম্যান ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ফ্লাইট ট্র্যাকার দাবি করেছে, এগুলোর গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের গুয়াম দ্বীপ, যেখানে মার্কিন সামরিক স্থাপনা রয়েছে। তবে, নিউইয়র্ক টাইমস এই তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি। এদিকে, আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমানগুলো ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিতে স্থানান্তরের উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করেছে। দিয়েগো গার্সিয়া থেকে একবার জ্বালানি নিয়ে এই বিমানগুলো ইরানে হামলা চালানোর ক্ষমতা রাখে।
বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমানগুলো ৩০,০০০ পাউন্ড ওজনের জিবিইউ-৫৭/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর (এমওপি), যা ‘বাঙ্কার-বাস্টার’ নামে পরিচিত, বহন করতে সক্ষম। এই বোমা ইরানের ফর্দো পারমাণবিক স্থাপনার মতো গভীর ভূগর্ভস্থ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফর্দোর মতো ৮০-৯০ মিটার গভীরে অবস্থিত স্থাপনা ধ্বংসে এই বোমাই একমাত্র কার্যকর অস্ত্র।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার বিকেলে নিউ জার্সি থেকে হোয়াইট হাউসে ফিরে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। গত বৃহস্পতিবার তিনি জানিয়েছেন, কূটনৈতিক সমাধানের জন্য দুই সপ্তাহ সময় নিচ্ছেন। এই সময়ের মধ্যে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন, ইরানে হামলার পক্ষে যাবেন কি না। তবে, নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প ইতিমধ্যে ইরানে হামলার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনা দীর্ঘদিন ধরে চলছে। ট্রাম্পের প্রশাসন তেহরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতি অবলম্বন করছে। ইসরায়েল ইতিমধ্যে ১২ জুন থেকে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা শুরু করেছে, যাতে ইরানের বেশ কয়েকজন সামরিক নেতা নিহত হয়েছেন। ইরানও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন বি-২ বিমানের মোতায়েন উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ট্রাম্পের হুমকির জবাবে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল হামলা চালালে তারা ‘কঠোর পাল্টা আঘাত’ পাবে। এছাড়া, ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দ্য টেলিগ্রাফকে জানিয়েছেন, ট্রাম্পের হুমকি গুরুতর হলে দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিতে পূর্বআঘাত হানার পরিকল্পনা করছে তেহরান।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বি-২ বিমানের এই মোতায়েন কূটনৈতিক সমাধানে ইরানকে চাপ দেওয়ার একটি কৌশল হতে পারে। তবে, এটি যদি সামরিক হামলার প্রস্তুতি হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাতের ঝুঁকি বাড়বে।






































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































