ভারত-পাকিস্তান-newsedge24

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিরসনে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। রোববার (৪ মে) রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে ফোনে কথা বলে পরিস্থিতির রাজনৈতিক সমাধানে মস্কোর প্রস্তুতির কথা জানান। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদের মধ্যে উত্তেজনার প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেয়া হয়েছে।

এই উত্তেজনার মূল কারণ গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পেহেলগামে পর্যটকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা, যাতে কমপক্ষে ২৬ জন নিহত হন। ভারত এই হামলার জন্য পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে, যদিও ইসলামাবাদ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। রাশিয়া জানিয়েছে, উভয় পক্ষের সম্মতি পেলে তারা রাজনৈতিক সমাধানের জন্য কাজ করতে প্রস্তুত।

ল্যাভরভ এর আগে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেন এবং ১৯৭২ সালের সিমলা চুক্তি ও ১৯৯৯ সালের লাহোর ঘোষণার আলোকে দ্বিপাক্ষিকভাবে বিরোধ নিরসনের আহ্বান জানান। তিনি উভয় দেশকে সংযম প্রদর্শন ও কূটনৈতিক পথে সমাধানের পরামর্শ দেন।

কাশ্মীর দীর্ঘদিন ধরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই অঞ্চলের পুরোটাই দুই দেশ দাবি করে, যদিও উভয়ে এর ভাগাভাগি নিয়ন্ত্রণ করে। অতীতে এই অঞ্চল নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দুটি যুদ্ধ, বিদ্রোহ এবং কূটনৈতিক সংঘর্ষ হয়েছে। সাম্প্রতিক হামলার পর উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে, যার মধ্যে ভারত পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ, ইন্দুস জলচুক্তি স্থগিত এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের মাত্রা হ্রাসের মতো পদক্ষেপ নিয়েছে।

রাশিয়ার মধ্যস্থতার প্রস্তাবটি তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দেশটি ঐতিহাসিকভাবে ভারতের বৃহত্তম অস্ত্র সরবরাহকারী এবং সোভিয়েত আমল থেকে নয়াদিল্লির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার পাকিস্তানের সঙ্গেও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। পাকিস্তানের রাশিয়ায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ খালিদ জামালি বলেছেন, ১৯৬৬ সালে তাসখন্দে রাশিয়ার মধ্যস্থতায় ভারত-পাকিস্তান সংঘাত নিরসনের মতো এবারও মস্কো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

তবে ভারত ঐতিহাসিকভাবে কাশ্মীর ইস্যুতে তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতার বিরোধিতা করে আসছে, সিমলা চুক্তির ওপর জোর দিয়ে। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার প্রস্তাব কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, তা নির্ভর করছে উভয় দেশের পারস্পরিক সম্মতির ওপর। পাকিস্তান এই হামলার “আন্তর্জাতিক, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের” প্রস্তাব দিয়েছে এবং মালয়েশিয়াকে তদন্তে অন্তর্ভুক্ত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও সোমবার পাকিস্তান সফর করে উত্তেজনা নিরসনে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *